>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ঘুরে আসুন আজাহার আলীর র্কীতি শেরপুরের অর্কিড পর্যটন শিল্প

জি এম বাবুল

:: প্রকৃতির সাথে মিতালির অপূর্ব সুযোগ

প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে ক্লান্ত মন কখনও কখনও শান্তির জন্য অধীর হয়ে উঠে। ক্লান্ত জনকে শান্তি যোগাতে আর প্রকৃতির সাথে মিতালী করার অপূর্ব সুযোগটি সৃষ্টি করেছেন  শেরপুরের এক ব্যবসায়ি আজহার আলী। মনের মাধুরি মিশিয়ে অর্থ,মেধা আর শ্রম দিয়ে তিলে তিলে সৃষ্ঠি করেছেন অর্কিড পর্যটন প্রকল্প। আর অর্কিড কে ঘিরে  প্রকৃতির সাথে মিতালী করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্ঠি হয়েছে। সারা অর্কিডটি যেন শিল্পির তুলির ছোয়ায় আঁকা গভীর  চিন্তার এক শিল্পকর্ম। নয়নভিরাম এ শিল্প কর্মটি এ পর্যন্ত করতে সময় লেগেছে দুই যুগ। কত টাকা গেছে তার হিসাব জানেনা আজাহার আলী। শিল্পটির সাথে নিজেকে জড়িয়ে পারিবারিক ভাবে অনেক অশান্তিরও সৃষ্টি করেছেন আবার প্রশাসনিক ভাবে অযথা নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। ব্যবসায় মন না থাকার কারনে লোকসানও  হয়েছে বেশ। তবে কোন প্রতিবন্ধকতাই আজহারকে আটকাতে পারেনি। বারবার অকৃত্রিম টানে ছুটে গেছেন শিল্পি তার শিল্প সৃষ্ঠির উন্মাদনায়। অর্কিডের প্রতিটি উপকরনের সাথে গড়ে উঠেছে তার নিবিড় বন্ধত্ব। কোথাও সমস্যা হলে খাওয়া ঘুম বাদ দিয়ে সমস্যা সরানোই যেন তার মূল দায়িত্ব।

অর্কিড পর্যটন প্রকল্পের সোভা বর্ধনে  চারিদিকে লাগানো হয়েছে সারি সারি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতীর গাঢ় সবুজ লম্বা গাছ, মাঠ জুড়ে রয়েছে মিশিনে কাঁটা এক মাপের বিশেষ সবুজ ঘাস, চোখ ধাঁধাঁনো নির্মল টলমলা জলের পুকুর আর সান বাঁধানো জমিদারি পুকুর ঘাট । পুকুরের চার পাশে মাছ শিকারে আসে সাদা ধবধবে বক। সবুজের ওই অর্কিডের  খাঁচা থেকে আনন্দ দেয় বানর, টার্কিছ, খোরগোশসহ দেশীয় বিভিন্ন জীবজন্তু। সারা অর্কিড জুড়ে নানা প্রজাতির বাহারি থোকা থোকা ফুল অপেক্ষায় আছে দর্শনার্থিদের নির্মল আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। অর্কিডে হাটার জন্য নির্মান করা হয়েছে সরু রাস্তা। আর রাস্তা গুলোতে ইটের উপর মনের মাধুরি মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে রং। সব মিলিয়ে এ যেন এক স্বপ্নপূরি।   প্রিয়জন অথবা বন্ধ-বান্ধবদের নিয়ে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় ছাতা এবং ছাতার নিচে বসার জন্য রয়েছে চেয়ার। চা, কফি ও সেভেন-আপ বা কোকাকোলা পানের জন্য রয়েছে ছনের তৈরী সুদৃশ্য ক্যান্টিন এবং রেস্ট হাউজ। এ যেন ্ইট বালুর যান্ত্রিক শহরের মধ্যে মন খুলে আনন্দ করার এক লীলা ভুমি। পরিবার-পরিজন বা  প্রিয়জন নিয়ে বেড়ানো ও প্রকৃতির সাথে মিতালি করার বা শহুরে জীবনের এক ঘিয়েমি কাটাতে চমৎকার একটি  বিনোদন কেন্দ্র ।

শেরপুর জেলা শহরের পৌর এলাকার শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া এলাকায়  আজাহার আলী ১৯৮৮ সাল থেকে আজাহার আলী তার ধানের খলার পাশেই প্রায় সাড়ে পাচঁ একর জমির উপর সম্পুর্ন ব্যাক্তি উদ্যেগে নানা জাতের দেশী-বিদেশী বনজ ও ফলদ গাছ-গাছরা রোপন করে গড়ে তলেন ‘অর্কিড’ বাগান। সে সময় ওই স্থানটি ‘কলা বাগান’ হিসেবে বেশ পরিচিত লাভ করেছিল। এরপর নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ওই বাগানের সৌন্দর্য হারানোর পর আবার ২০০৮ সাল থেকে তিনি আবার  প্রচুর টাকা খরচ করে নানা অবকাঠামো তৈরীর মাধ্যমে নতুন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড পর্যটন প্রকল্প’। অর্কিডে প্রবেশ করতে স্বেচ্ছাদান হিসেবে ২০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। প্রতিদিন ওই অর্কিডে  অসংখ্য প্রেমিক যুগল এবং  বন্ধু-বান্ধবসহ ক্লান্ত জীবনের একটু ফুসরত নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসে শহরবাসী এবং জেলা ও জেলার বাইরের অন্যান্য লোকজন। বিশেষ করে ছুটির দিনে বেড়াতে আসা লোকজনের ভীড় থাকে বেশী । কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান  পারিবারিক কোন অনুষ্ঠান করতে দিন ব্যাপি ভাড়া নিতে চাইলে ৫ হাজার টাকায় বুকিং দিতে হয়। আপাতত রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ভবিষ্যতে এখানে আবাসিক বাংলোসহ ভ্রমনবিলাসী ও বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুযোগ সবিধা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্কিড মালিক আজাহার আলী। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত (সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত) অর্কিডে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর কোন দর্শনার্থীকে ভিতরে থাকতে দেওয়া হয়না।

আজহার আলী জানান ব্যবসায়িক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে অর্কিড করা হয়নি।আমার বাবা ছিলেন একজন প্রকৃতি প্রেমিক মানুষ বাবার স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই আমি এটি করেছি। এখানে সাধারন মানুষ ছাড়াও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি আমলা,প্রতিরক্ষা ও বিচার বিভাগের লোকজন  বেড়াতে  আসে।  মানুষকে শুধু আনন্দ দেওযার জন্যই আমি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে অর্কিডটি স্থাপন করেছি। অর্কিডটির পাশে আমার আরও ৪  একর জায়গা রয়েছে। ইচ্ছা ছিল সাকুল্য জমিতেই আমার স্বপ্ন অর্কিড নির্মান করবো। আমি জীবিত থাকতেই অর্কিডে অসহায় মানুষের জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্র করবো,আমার  ডাক্তার মেয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিবে সাথে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী লাইব্রেরী করারও ইচ্ছা আছে। অর্কিডের অদূরেই রয়েছে মধুটিলা ও গজনী অবকাশ  পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুরে পর্যটকদের জন্য বিশেষ কোন আবাসনের ব্যবস্থা নেই।পর্যটকদের জন্য আবাসনের জন্য রিসোর্ট করার চিন্তাও রয়েছে । আমার অবর্তমানে অর্কিডের আয় থেকে একটি অংশ মানুষের কল্যানে ব্যয় হবে এমন একটি দলিল করা যাবো বলে প্রকৃতি প্রেমিক আজহার আলী জানান।   জমি জামানত রেখে ব্যাংকের কাছে টাকা চেয়েছিলাম ব্যাংক দিতেও চেয়েছিল । নানা জটিলার কারনে ঋন হচ্ছেনা।

শেরপুর

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
১৯.১১.২০১২২


Comments are closed.