সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় শ্রীবরদীবাসীর চরম দুর্ভোগ
জিএম বাবুল
শেরপুর প্রতিনিধি
শ্রীবরদী উপজেলার ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজকর্মে ব্যাপক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকার জনগণকে নামজারিসহ জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে না পেরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, গত ০৭/০৬/২০০৪ ইং তারিখ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য রয়েছে। তবে গত ১৯/১২/২০০৭ ইং তারিখে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অত্র অফিসে যোগদান করিলেও মাত্র ৪ মাস পরেই গত ১৭/০৪/২০০৮ ইং তারিখেই তিনি চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকেই অদ্যাবধি পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য রয়েছে। তারপর থেকে এ পদে কোন অফিসার যোগদান না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্ব পালন করলেও জনগণের দুঃখ দুর্দশা কাটছে না বরং বেড়েই চলেছে ভোগান্তি। জমির দলিল থেকে শুরু করে রাজস্ব আদায়সহ যাবতীয় কাজে ভূমি কার্যালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা না থাকায় এ কাজে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নের শত শত লোক নামজারি মামলা করতে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে কমে গেছে জমি রেজিস্ট্রী, বিদেশ গমন, শিল্প কারখানা নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ, বিয়ে এমনকি চিকিৎসা সহ বিভিন্ন জরুরী প্রয়োজন। জমির মালিকগণ জমি ক্রয়-বিক্রি করতে না পেরে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
শ্রীবরদী পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ নূরুল আমিন বলেন, ৩/৪ মাস ধরে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভুমি অফিসে আসা-যাওয়া করছি কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারি করতে না পারায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছি না। যার কারণে আমার ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই গ্রামে নুরুজ্জামান ওরফে গরিবুল¬াহ বলেন, আমি দুই/তিন মাস থেকে ঘুরছি কিন্তু নামজারি জমা খারিজ করতে পারছি না। পৌর এলাকার কলাকান্দা গ্রামের শহিদুর রহমান বলেন, আমি খুবই অসুস্থ্য, অন্য কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নিলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় আমার নামজারি জমা খারিজ হচ্ছে না। জানা যায়, দুই হতে তিনশত জমাখারিজ পেন্ডিং রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, দলিল রেজিষ্ট্রীর সংখ্যা খুব কম। এ ব্যাপারে একজন দলিল লেখককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, নামজারি জমাখারিজের জন্য দলিল রেজিষ্ট্রী খুবই কম হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, নামজারি জমাখারিজের অভাবে সাবকবলা দলিল না করে দানপত্র দলিল করে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। এতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গুলশান আরা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন দাপ্তারিক কাজকর্মের কারণে প্রায় দুই মাস নামজারি জমাখারিজ বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে নিয়মিত নামজারিজমা খারিজ হচ্ছে।
www.bangladeshnews24x7.com/বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম/জাআ/জের/২১.০৫.২০১২/এসএকে











