সাজু হত্যা মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান
নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
বগুড়ার গাবতলীতে কাপড় ব্যবসায়ী সাজু হত্যা মামলার স্ত্রী রোজিনা, প্রেমিক রতনসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ মামলায় ৪ জন জেল হাজতে এবং অন্যতম আসামী পারভেজকে পলাতক দেখানো হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাসির উদ্দীন আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেন। আসামীদের ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে দেয়া জবানবন্দি, মোবাইল ফোনের কললিষ্ট এবং হত্যার দায় স্বীকারসহ একাধিক প্রমানাদি চার্জশীটে উল্লেখ রয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সাজুকে হত্যার পুর্বে রতন রোজিনা ১৮ বার , রতন ও মুল হত্যাকারী রাসিফ ১০/১২বার ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা আশা করেন সকল আসামীর ফাঁসি হতে পারে। সাজু হত্যা কাহিনির স্ত্রী রোজিনা বেগম যে লোমহর্ষক বর্ননা দিয়েছিল তার হুবহু পাঠকের স্বার্থে পুনরায় তুলে ধরা হল।
রাজ্য ও রানীকে পেতে প্রেমিক রতন ২ লাখ টাকায় আসিফ, ওহাব ও পারভেজকে ভাড়া করে। ঘটনার রাতে প্রেমিক রতন আর স্ত্রী রোজিনা স্বামী সাজুর হাত পা চেপে ধরে এবং ভাড়াটিয়া খুনি রাসিফ, পারভেজ, ওহাব সাজুর গলায় দড়ি (রশি) দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে রাতেই রোজিনা পিতার বাড়ী গাবতলীর পৌর এলাকার পশ্চিম পাড়ায় প্রেমিক রতনের সঙ্গে ফিরে আসে।
স্বামী সাজু সরকারকে হত্যার কথা স্কীকার করে রোজিনা পুলিশকে জানিয়েছে, সন্তানকে প্রাইভেট পড়ানো কালে রতন রোজিনাকে চাচীমা বলে আর রোজিনা রতনকে ছেলে বলে ডাকতো। রতন প্রাইভেট পড়ানোর সময় রোজিনার স্পর্শকাতর স্থানে মাঝে মধ্যে হাত দিত। এভাবে বেশ কিছু দিন চলতে থাকলে রোজিনা রতনের ওপর আসক্ত হয়ে পড়ে। দু‘জনার মধ্যে পরকিয়া প্রেম থেকে গড়ে ওঠে দৈহিক সম্পর্ক। রোজিনা বেশ কয়েকবার রতনের দ্বারা অন্তঃসত্বা হয়ে গোপনে এম আর করে। স্বামী সাজু বিষয়টি আঁচ করতে পেরে রোজিনাকে শাসন করলেও স্বামীর বাধা উপেক্ষা করে চলতে থাকে রোজিনা রতনের পরকিয়া প্রেম।
আবারো রোজিনা ২ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে স্বামী সাজুর সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে রোজিনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাজু গত ১৬ ডিসেম্বর ঘটনার রাতে বগুড়ায় ডাক্তারের কাছ থেকে এম আর করে রোজিনাকে পিতার বাড়ী রেখে যায়। ঐ রাতেই রোজিনা পিতার বাড়ী থেকে গভীর রাতে স্বামীকে খুন করার উদ্দেশ্যে প্রেমিক রতনের ভাড়া করা খুনি আসিফ, ওহাব ও পারভেজকে সঙ্গে নিয়ে চাকলা গ্রামে যায়। অন্যদেরকে বাহিরে রেখে রোজিনা স্বামী সাজুকে ডেকে ঘরে প্রবেশ করে। কোন এক সময় রোজিনা কৌশলে দরজা ও বাড়ীর গেইট খুলে রতন, আসিফ, ওহাব ও পারভেজকে ঘরে নিয়ে স্বামী সাজুকে বারান্দায় রক্ষিত কাপড় শুকানোর দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। পরে খাটের উপর লেপ-কাথা দিয়ে ঢেকে রাখে।
ভাড়াটিয়াদের নগদ টাকা দিতে না পেরে মটর সাইকেল ও কাগজ পত্র দিয়ে বিদায় করে। তারপর রতনকে রেখে রোজিনাসহ তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। প্রেমিক রতন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে সিলিংয়ের উপর দিয়ে অন্য ঘর দিয়ে বের হয়ে আসে। রাতেই রতন রোজিনাকে তার পিতার বাড়ী রেখে যায়। ওসি আব্দুর রশিদ সরকার ও তদন্ত কর্মকর্তা ফাসির উদ্দীনের কাছে রোজিনা আরো জানায় রতনকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে সে রাজ্য ও রানীর লোভে হত্যার এই ফন্দি আঁটে।
রোজিনা স্বামী সাজুকে হত্যা করে স্বাভাবিক চলা ফেরা করতো। অনুশোচনা ও চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ কাউকে একটুও বুঝতে দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ফাসির উদ্দীন রোজিনার মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন। ক্লুহীন খুনের মোটিভ ৫ দিনের ব্যবধানে উন্মোচন, পরকিয়া প্রেমের আবিস্কার এবং খুনিদের গ্রেফতার করে পুলিশ এলাকাবাসির কাছে ব্যাপক প্রসংশা পেয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান আসিফ গাবতলী পৌর যুবলীগের সভাপতি তারিক খুনের অন্যতম আসামী। সে বগুড়া থেকে ওহাব, পারভেজসহ একাধিক কিলারদের নিয়ে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ পরিচালনা ও ভাড়াটিয়া হিসাবে কাজ করতো। ওহাব গোড়দহ গ্রামের আঃ জব্বারের, আসিফ হামিদপুর গ্রামের নান্টু সরকারের র প্রেমিক রতন চাকলা গ্রামের জিয়া উদ্দীনের পুত্র বলে পুলিশ জানিয়েছে।
www.bangladeshnews24x7.com/বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম/জাআ/জের/০৭.০৪.২০১২/এসএকে











