>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

চায়ের রাজধানী ঘিরে মৌ-ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র : প্রকৃতী প্রেমীদের তীর্থস্থান

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

পর্যটন শিল্পের আধার মৌলভীবাজার জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃতী প্রেমীদের আকৃষ্ট করতে গড়ে উঠছে অপার সৌন্দ্যর্যমন্ডিত ‘মৌ-ভ্যালী’ পর্যটন কেন্দ্র। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এ স্পটটি এখনো পুরোপুরি চালু না হলেও সময় কাটানোর মত বেশ কিছু সামগ্রী ইতোমধ্যে তৈরি করে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। আরও সুযোগ-সুবিধা স্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরো কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হলেও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুরসহ নারী-পুরুষরা এখানে যাতায়াত শুরু করেছেন।

শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কে প্রেমনগর চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় টিলায় হাজারো বৃক্ষ বেষ্টিত নয়নাভিরাম বিশাল এলাকা জুড়ে এই মৌ-ভ্যালীর অবস্থান। সবুজ প্রকৃতীকে নিবির ভাবে উপভোগ করতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন নির্ভর নানা অবকাঠামো। সাজানো রয়েছে বাচ্চাদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন খেলনার সামগ্রী। মৌলভীবাজার শহর থেকে শ্রীমঙ্গল অভিমূখে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত প্রেম নগর চা বাগান সংলগ্ন বিশাল টিলা ঘেরা এলাকায় গড়ে উঠা মৌ-ভ্যালী নি:সন্দেহে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ এনে দিবে।

শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়ক ধরে যেকোন যানবাহনে মৌলভীবাজার থেকে ১০ কিলোমিটার এবং শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত মোকাম বাজার। বাজারের ভেতর দিয়ে দেওরাছড়া-কমলগঞ্জ সড়কের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার সামনে এগোলেই প্রেমনগর চা বাগান। এ চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়- টিলায় ২ হাজারের অধিক বৃক্ষ বেষ্টিত নয়নাভিরাম বিশাল এলাকা জুড়ে পর্যটন ও পিকনিক স্পট মৌ-ভ্যালীর অবস্থান। সবুজ প্রকৃতীকে নিবিড়ভাবে উপভোগ করতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন নির্ভর নানাবিদ অবকাঠামো। সাজানো রয়েছে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন খেলনার সামগ্রী। বিশাল টিলা ঘেরা এ স্পটটির প্রতিটি গাছ সাজানো হয়েছে রং-বেরঙে। বৃক্ষ নির্ভর এ স্পটটিতে গাছের ওপরে তৈরি ঘরে, গাছের নিচে তাবুতে এবং বিশেষ কাগজের তৈরি কটেজে রাখা হয়েছে আবাসিক ব্যবস্থা। রয়েছে পাকা কটেজও। স্বল্প খরচে নতুনত্বের স্বাদ নিতে অনেকেই আসছেন এখানে।

সরজমিন এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, ১৫/২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আকর্ষণীয় পর্যটন ও পিকনিক স্পট  করে গড়ে তুলতে মৌ-ভ্যালীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মৌ-ভ্যালীর সুপারভাইজার এস. এম শাহীন জানান, প্রায় ২০ জন লোক রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পাইনআপেল হাউস(বিশেষ ধরনের কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি), দু’টি বাবুই পাখির বাসা, দু’টি গোলাকার দোলনা, গাছের ওপর ঝুলন্ত ঘর, একটি ঝিনুক কটেজ, একটি কমলা লেবু আকৃতীর ঘর, ঝুলন্ত কাপড়ের ঘর, ঝুলন্ত ব্রিজ, গাছের ওপরে বৈকালিক চা-নাস্তার স্থান, আটটি গাছ জুড়ে রশি দিয়ে শিশুদের স্পাইডারম্যান ও সুপারম্যান, মাকড়শার জাল, বসার জন্য দুইটি মাটির শেড ইত্যাদি। বাবুই পাখির বাসা রয়েছে লিচু গাছে ঝুলন্ত অবস্থায়। ৪/৫ জন বসে আড্ডা দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে ঝিনুক আকৃতীর কটেজ ও বাবুই পাখির বাসা। এসব তৈরি করতে ব্যাবহার করা হয়েছে বাঁশ, ছন, বন ও কাপড়। দোলনায়ও ৪ থেকে ৮ জন চড়তে পারবেন। বিশেষ ধরনের কাগজ, মাটি, সিমেন্ট ও পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কমলা লেবু আকৃতীর ঘরটি। এটি শিশুদের খেলা ও বসার উপযোগী।

গাছের ওপর তৈরিকৃত ট্রি হাউসে প্রবেশ করতে মাটি থেকে কাঠের মই বেঁয়ে চড়তে হবে একটি লিচু গাছে। ওই গাছ থেকে বাঁশের সেতু পাড়ি দিয়ে (ঝুলন্ত ব্রিজ) পরবর্তী লিচু গাছে অবস্থিত কাঠজাত ও টিনজাত দ্রব্য দিয়ে তৈরি ঘরে পৌছতে হবে। এ ঘরটিতে রয়েছে ব্রিটিশ আমলে তৈরি দুটি চেয়ার। রয়েছে গাছের ডাল কেটে তৈরিকৃত বিশেষ টেবিল। একটি গাছের সাথে অন্য গাছে চড়ার জন্য রয়েছে বাঁশ ও রশি দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত ব্রিজ। ঝুলন্ত ব্রিজগুলি এ স্পটের আকর্ষণ অনেকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া এখানে সম্পর্ণ বাঁশ দিয়ে তৈরি চা নাস্তার শেড ও মাকড়শার জাল ব্যতিক্রমী আকর্ষণ। গাছগুলোর ডালে ডালে কাপড়, ডালা ও কুলা দিয়ে তৈরি রঙ বেরঙের শো-পিস যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পাকা ও সেমিপাকা কটেজের সাথেই আনারস, পেয়ারা, লিচু বাগান এবং তেজপাতা, আম, কাঠালের গাছ সাজানো রয়েছে। বিকেলে গাছে গাছে পাখিদের কলরব পুরো এলাকার পরিবেশকে মোহনীয় করে তুলে। এলাকাটি দেশি-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে তুলতে পুরোদমে কাজ চলছে বলে জানালেন মৌ ভ্যালীর সুপারভাইজার এস. এম শাহীন।

মৌ ভ্যালীর ব্যবস্থাপক জানান, মৌ ভ্যালীকে সাজানোর কাজ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলা বিভাগে মাষ্টার্স পড়ুয়া এক ছাত্র ও তার সহযোগীরা। অচিরেই বিভিন্ন ধরনের আরো কিছু কটেজ তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে। পিকনিক করতে যারা আসবেন তাদের সুবিধার কথা ভেবে এখানে আলাদাভাবে ওয়াশঘর, সুপেয় পানিয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যদিও এখনো মৌ ভ্যালীতে প্রবেশ ফি এবং কটেজের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। তবে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে এখানে প্রবেশ ও থাকা-খাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে যারা এটি দেখতে আসছেন তারা বিনামূল্যেই প্রবেশ করে মৌ-ভ্যালী দেখতে পারছেন বলে জানান।

গত ১৪ অক্টোবর এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় উপস্থিত থেকে মৌ ভ্যালী পর্যটন ও পিকনিক স্পটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসীন আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুন, র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক কাওছার মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু ও ফকির শাহাব উদ্দিন। মৌলভীবাজারের ৯১টি চা বাগান, ৩টি জলপ্রপাত, নজরকাড়া কমলালেবু বাগান, আনারস-লেবু বাগান, রাবার বাগান এবং সবুজে ঘেরা অরণ্য প্রকৃতীর অপরূপ সৃষ্টি। পর্যটন শিল্পের এ জেলায় গড়ে ওঠছে আরো একটি পর্যটন ও পিকনিক স্পট যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ এনে দিবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

-বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, জাআ, জের, এসএকে


Comments are closed.