>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সুন্দরবনে ট্যুরিজমের নামে চলছে পর্যটক হয়রানী

খুলনা প্রতিনিধি
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকোট্যুরিজমের নামে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ট্যুরিষ্ট ফার্ম। খুলনা শহর ও মংলাকেন্দ্রিক এই ফার্মগুলি মূলতঃ ছোট ইঞ্জিনবোট সর্বস্ব। রাজধানী শহরে রয়েছে এদের কয়েকটি এজেন্ট। ইকোট্যুরিজমের নূন্যতম সার্ভিস এদের কাছ থেকে টুরিষ্টরা পায় না। অথচ গলাকাটা সার্ভিস চার্জ এরা ভিনদেশি, ভিন জেলার ট্যুরিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে। আগত পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে এসব ভূইভোড় ট্যুরিষ্ট ফার্মগুলো ইতিমধ্যে ব্যানার, লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে। অবশ্য হাতে গোনা ২/১টি ট্যুরিজম ফার্ম তাদের সেবা দিয়ে দেশে-বিদেশে ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে।

জানা গেছে, দেশে ইকোট্যুরিজম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন নীতিমালা নেই। যে যার ইচ্ছামত দেশের ইকোলজিক্যালী গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে পরিবেশ প্রতিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থদন্ডের সাথে হরহামেশা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইকো-ট্যুরিজম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতার সাথে সাথে ট্যুরিজমের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেতে থাকে। বাংলাদেশেও এর হাওয়া লাগে।

সুন্দরবনে এই ইকোট্যুরিজম সম্প্রসারণের ক্ষেত্র তৈরি হয়। এগিয়ে আসে অনেকে। বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের বিপুল ভ্রমণ মূলের বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা-খুলনা এবং মংলায় গড়ে উঠে ইকোট্যুরিজম ফার্ম। অভিযোগ রয়েছে এগুলো যারা পরিচালনা করছেন তাদের ৯৫ভাগেরই ইকোট্যুরিজমের সামান্যতম ধারণাও নেই। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণে প্রতিষ্ঠিত এই ফার্মগুলি হতে ভ্রমণপিপাসুরা যে সেবা পাচ্ছেন তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। ‘কুমারী সাগরকন্যা’ সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দেশ-বিদেশ হতে যারা ছুটে আসে তাদের মূলত অর্থদন্ডই দিতে হয়। ভ্রমণের উদ্দেশ্য সফল হয় না। সূত্রমতে, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি না করে যে পর্যটন তাই ইকোট্যুরিজম।

এই ইকোট্যুরিজমের জনপ্রিয়তা আজ বিশ্বব্যাপী। সুন্দরবনকে ঘিরে এই ইকোট্যুরিজমের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী আসে সুন্দরবনে। দিন দিন তার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সুন্দরবন বিশ্বঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়ার পরে সুন্দরবনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিদেশি পর্যটকরা ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শনার্থী বৃদ্ধির এই ইতিবাচক সূচক সুন্দরবনে ইকোট্যুরিজমকে শিল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গেছে এই সুযোগকে অবলম্বন করেই সুন্দরবনে ইকোট্যুরিজমের নামে চলছে একপ্রকার প্রতারণা।

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, প্রতিনিধি, জাআ, এসএকে


Comments are closed.