>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দর্শনার্থীদের মন কেড়েছে চাখার শেরে বাংলা জাদুঘর

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি না পেলেও এরই মধ্যে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিযেছে চাখার শেরে বাংলা জাদুঘর ও গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ কমপ্লেক্স। প্রতিদিন এ দু’টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে শত শত লোকের ভীড় জমে। বানারীপাড়ার চাখারে শেরে বাংলার নিজ ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত যাদুঘরে তার ব্যবহৃত জিনিস পত্র দেখতে নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভীড় দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা শেরে বাংলার হাতের লেখা ও পারিবারিক পরিচিতি দেখতে ও জানতে পারেন।

চাখার জাদুঘর নির্মানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শেরে বাংলার বাড়ী পরিদর্শন ও সরকারী ফজলুল হক কলেজের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে শেরে বাংলার নামে যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার ঘোষনা দেন। সে অনুযায়ী চাখারে শেরে বাংলার নিজ ভূমিতে একটি যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাদুঘরটি জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি কিংবা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি। যদিও জাদুঘরটি খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রন করছে।

অপরদিকে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভীড় জমে। এখানে ঈদ কোরবানি ছাড়াও বিশেষ কোনদিনে উপচে পড়া দর্শনার্থীদের দেখা যায়। একই ভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সরকারী- বেসরকারী অফিসের কর্মচারীরা বনভোজনে আসে। ঈদ ও কোরবানীতে প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষ আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দিন কাটায়। ঈদের দিন গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স-এ প্রায় ২০ হাজার মুসল্লী পৃথক দু’টি জামাতে অংশ নেন। ওই দিন বিকাল ২ টার পর থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে মুখোরিত হয়ে ওঠে। একটানা ৩ দিন এ অবস্থা বিরাজ করে।

২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্ভর উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু চাংগুরিয়ার নিজ বাড়ির সামনে প্রায় ১৪ একর জমির উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ্ কমপ্লেক্স এর নির্মান কার্যক্রম শুরু করেন। উক্ত নির্মান কাজের আর্কিটেক্ট ছিলেন, ইনটেক লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন মিলন। তার ডিজাইন অনুযায়ী ৩ বছর মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্মান কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন এস. সরফুদ্দিনের ছোট ভাই মোঃ আমিনুল ইসলাম নিপু। তিনি ২০০৬ সালে উক্ত জামে মসজিদ ও ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজ সম্পন্ন করেন। তার নির্মানাধীন সময়কালের মধ্যে তিনি একটি বৃহৎ মসজিদ-মিনার, ২০ হাজার অধিক ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহ্ ময়দান, একটি ডাকবাংলো নির্মান, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক-পুকুর খনন কাজ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন-ফুল বাগান তৈরি ও লাইটিং ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন। ওই নির্মান কাজে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার নির্মান শ্রমিক কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়।

নির্মান কাজ শেষে ওই বছরের ২০ অক্টোবর ছারছীনা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ আনুষ্ঠানিক ভাবে কমপ্লেক্স উদ্ধোধন করেন। এরপর থেকেই সেখানে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে আশা শুরু করে। এছাড়াও প্রতিদিন জেলা শহর ও পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ-ঈদগাহ্ কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমায়। দর্শনার্থীরা সেখানের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প ও নিজস্ব গার্ডের ব্যবস্থা করেছে। তবে উক্ত প্রতিষ্ঠান নির্মানের ক্ষেত্রে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা জানা যায়নি।

-বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, জাআ, জের, এসএকে


Comments are closed.