>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ঈদ উৎসব এবং বেড়ানো

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

ঈদের উৎসবমুখর আনন্দটাকে খুঁজে নিতে মন ছুটে যায় দূরে। যেখানে সমুদ্র এসে থেমে যায় দূর কোন পাহাড়ের সীমানায়, যেখানে ঝর্ণাধারায় বয়ে যায় আমাদের সমস্ত উচ্ছ্বাস। আর এ আনন্দের উচ্ছ্বাসকে উপভোগ করার সময়টুকু পাওয়া যায় ঈদের ছুটিতে। যে সময়টুকুতে সবাইকে একসাথে পাওয়া যায়। ঈদের দিন সবাইকে নিয়ে একটু পোলাও কোরমা, মিষ্টি, সেমাই সহ বিভিন্ন আইটেমের মজাদার খাবারের পাশাপাশি অনেকেই চান সময়টাকে একটু কাজে লাগিয়ে বন্ধু-বান্ধবী, আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সদস্য ও ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে পছন্দের কোন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে।

ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দের পূর্ণতা পায় তখনই নতুন কাপড়, সাজসজ্জা, দাওয়াত, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে। যা থেকে নিজেকে সবার সাথে মিশিয়ে একটু স্বস্থির ছোঁয়া লাগিয়ে প্রশান্তির আভা পেয়ে থাকে এবং উপভোগ করা যায় ঈদের আনন্দকে। তাই ঈদে আমাদের মধ্যে এ ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। শুধু ঘুরে বেড়ানোর ভাবনা নিয়ে নয়। এই বেড়ানো প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন পোশাক নিয়েও তারুণ্যের মধ্যে থাকে অনেক জল্পনা-কল্পনা। ঈদ মানেই নতুন পোশাক আর নতুন পোশাক না হলে আনন্দটা যেন অপূর্ণই রয়ে যায়। তাই ঈদের আনন্দটাকে পরিপূর্ণ করতে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ফ্যাশনেবল পোশাক কেনাকাটায় ছোট-বড় সবাই হয়ে পড়ে ব্যস্ত। নিত্য নতুন ডিজাইনের বাহারি ও একটু ব্যতিক্রম পোশাক তো চায়ই। ঈদের দিন সকালে, বিকালে, ঈদের পরের দিনগুলিতে কি পরবে তার জন্য আগে থেকেই নেমে পড়ে ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা। ঈদের দিনটিকে বর্ণিল করতে কিনছেন ঈদের সকালের পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবি এবং বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার পোশাক ইত্যাদি। বেশির ভাগ তরুণরা ঈদের সাজ হিসেবে পাঞ্জাবি-পায়জামার প্রতিই আকৃষ্ট হচ্ছে এবং কমবয়সীরা শর্ট পাঞ্জাবির প্রতি। এছাড়াও শার্ট প্যান্টের সমারোহ, ফুল অথবা হাফস্লিভ, ফতুয়া, যাই হোক না কেন শর্ট শার্ট, বডি ফিটিং শার্টের চাহিদা কিন্তু একটু বেশি। মেয়েদের পাশাপাশি বর্তমান ফ্যাশনেবল তরুণদের মধ্যেও অর্নামেন্টের প্রতি আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। যা তাদের ফ্যাশনকে নতুন মাত্রা যোগ করে দেয়। ড্রেসআপের সাথে ম্যাচিং করে ব্যবহার করছে বেল্ট, ব্রেসলেট, চশমা ও সানগ্লাস ইত্যাদি। পাশাপাশি নিত্য নতুন ডিজাইনের জুতা বা স্যান্ডেল তো রয়েছেই। আর এসব আকর্ষণীয় পোশাকটি নির্বাচন করতে প্রত্যেকেই এখন ব্যস্ত মার্কেটিংএ। ঈদে আকর্ষণীয় সব পোশাক আশাক খোঁজতে ছুটে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর বিপণি বিতান, মিমি সুপার মার্কেট, সেন্ট্রাল প্লাজা, আমিন সেন্টার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সানমার ওশানসিটি, ভিআইপি টাওয়ার মার্কেট, হকার মার্কেট ও রেয়াজউদ্দিন বাজার ইত্যাদি মার্কেটে।

ঈদের উৎসবে নিজেকে রাঙাতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে তরুণীরা। কি কিনবে, কোন সালোয়ার কামিজটি কিনবে, কোন শাড়িটা কিনবে, থ্রি-পিচ, গয়না, কসমেটিকস, মেহেদী ইত্যাদি সাজগোচের প্রসাধনী অর্নামেন্ট নির্বাচন ছাড়াও ভিড় জমায় নগরীর বিউটি পার্লারগুলোতে এবং ঘুরে বেড়াই নতুন পোশাকের সন্ধানে নতুন নতুন মার্কেটে। সাথে সাথে নিত্যনতুন পোশাক আশাকের দৃষ্টিনন্দন এক্সক্লুসিভ সব রঙে রাঙায়িত হয় সময়ের তরুণীরা। ইন্ডিয়ান পোশাকের পাশাপাশি সিল্ক, জামদানি, মসলিন, রেশমি, কটন, ইপিয়ান শাড়ির ছাড়াও ফতুয়ার প্রতিও আকৃষ্ট হচ্ছে তারা। রঙ-বেরঙের পোশাক পরে বন্ধু-বান্ধবীর সাথে ঈদে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই আলাদা সবার জন্য। আর এ ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক শোভা মণ্ডিত চট্টগ্রামে রয়েছে পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভার। চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকত ও কক্সবাজার দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়। এছাড়াও পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, কাপ্তাই লেক, চট্টগ্রাম শিশু পার্ক, কর্ণফুলী শিশুপার্ক, ফয়েসলেক, জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, জিয়া জাদুঘর, নৌবাহিনী যাদুঘর, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, ওয়ার সিমেট্রি, ডি.সি. হিল, লালদীঘির পার্ক, পারকী বিচ, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, রাঙ্গামাটি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবান, মহেশখালী পার্ক, আনোয়ারা ওয়ান্ডার গার্ডেন ও বৃহত্তর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও অন্যান্য স্থান আমাদের বিনোদনের অনেক চাহিদা পূরণ করে আসছে। ঈদের আনন্দকে উপভোগ করতে খুব সহজেই যেতে পারেন –

কক্সবাজার : বাংলাদেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ছুঁয়ে যার অবস্থান। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (১২০ কিলোমিটার) বঙ্গোপসাগরের অতল জলরাশির সাথে মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বর্ণময় বালুতটের। এই সৌন্দর্য্য প্রাকৃতিক পরিবেশ পাহাড়, ঝর্ণা, হিমছড়ি ইনানীর সুবিশাল পাথর ও বালুর সম্মিলন আপনাকে আকর্ষণ করবে বেশি। অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে দক্ষিণে রয়েছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কক্সবাজারে যেতে হলে চট্টগ্রাম জি.পিও.ও, বিআরটিসি, বহদ্দার হাট, দামপাড়া থেকে ইউনিক, সোহাগ পরিবহন, এসআলম, গ্রীন লাইন বাস সার্ভিস প্রতিদিন তাদের বাস গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

পতেঙ্গা : চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকত। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত সৌন্দয্যে ঘেরা এই সৈকত বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া বাস, মেক্সি ও টেম্পো করে চট্টগ্রাম শহরের যে কোন স্থান থেকে এই সৈকতে পৌঁছানো যায়।

চট্টগ্রাম শিশুপার্ক ও কর্ণফুলী শিশুপার্ক
: চট্টগ্রাম শহরের মধ্যখানে অবস্থিত চট্টগ্রাম শিশুপার্ক ও কর্ণফুলী শিশুপার্ক। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের বিভিন্ন আইটেম নিয়ে গড়ে ওঠেছে এ পার্কটি। বিভিন্ন আইটেম সাজানো এই বিনোদন কেন্দ্রে রয়েছে চুকচুক গাড়ি, ভয়েজার বোট, মেডি গোডাউন, রেসি গোডাউন, রেসিংকার, দোলনা ছাড়াও অন্যান্য বিনোদন সুবিধা এবং আরো রয়েছে মিনি চাইনিজ, কুলিংকর্নার ছাড়াও অনেক রকমারী সমাগ্রীর দোকান। ডিজনী ল্যান্ডের আদলে গড়া এই পার্কটির গেইট সবাইকে আকর্ষণ করে।

ফয়স লেক ও চিড়িয়াখানা
: চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবিস্থত পাহাড়ের পাদদেশে লেক সমৃদ্ধ বিশ্বমানের একটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা এই লেক দর্শনার্থীদের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করে আসছে। রয়েছে লেক’র ওপর ঝুলন্ত সেতু, অত্যাধুনিক রাইডস, মোটেল রিসোর্টস, সী ওয়ার্ল্ড, হানিমুন শ্যালে, ক্লাব হাউস, নৌকা, প্যাডেল বোট ও ইলেকট্রিক মোটর বোট, রেস্তোরা, মার্চেন্ডাইজ, গিফ্ট শপ, অবজারভেশন টাওয়ার ইত্যাদি। শহরের উপকণ্ঠে ফসলেকের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। বিশাল এলাকাজুড়ে পাহাড়ে হেলেন দিয়ে এই চিড়িয়াখানায় রয়েছে অনেক জীবজন্তু ও পশু পাখির সমাহার। বাঘ,সিংহ, সাপ, হাতি, হরিণ, ময়ুর, কুমির ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক দুর্লভ প্রাণী।

সীতাকুণ্ড ও ইকোপার্ক : চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির ও ইকোপার্ক। পাহাড় ও অরণ্যঘেরা এই অঞ্চল পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অনেক উপরে অবস্থিত। সীতার পুণ্যভূমি খ্যাত এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতে হলে একটু বেগ পেতে হয়। বেশ উঁচুতে সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে এই পাহাড়ে ওঠা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও এর সৌন্দর্য দেখে সবাইকে মুগ্ধ করতে পারে এর প্রকৃতি।

ইকোপার্ক : সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দিরের একটু আগেই এই ইকোপার্ক। পাহাড়ের পাদদেশে পথ কেটে সবুজ অরণ্যঘেরা সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই পার্ক ভ্রমণপিয়াসীকে মুগ্ধ করে। মাঝে মাঝে চোখে পড়বে হরিণও। পাহাড়ি ঝর্ণার সাথে সাথে এখানে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা। এই পার্কের ভিতর দিয়েও সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে অনেক সুবিধা।

ওয়ার সিমেট্রি : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতিকে মনে রাখার মানসে গড়ে উঠেছে ওয়ার সিমেট্রি। ৭৫৫ জন সৈনিকের সমাধির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেইভস কমিশন। চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার সংলগ্ন চট্টগ্রাম আর্ট কলেজের পাশেই গড়ে উঠেছে নিরব প্রকৃতি ঘেরা এই স্মৃতিসৌধ।

জিয়া স্মৃতি যাদুঘর : চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার-কাজীরদেউড়ি এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের অপরদিকে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি যাদুঘর। এখানে রয়েছে মোট ১২টি গ্যালারী উপস্থাপনের মাধ্যমে ৭৪৩টি নিদর্শন। এছাড়াও রয়েছে বস্তুগত নিদর্শন। দলিল রয়েছে ১২টি। যাদুঘরে রয়েছে গ্যালারী, লাইব্রেরী ও মিলনায়ত।

চট্টগ্রাম শিশুপার্ক :এপোলো শপিং সেন্টার, ভি.আই.পি. টাওয়ার এর মধ্যস্থলে অবস্থিত এ পার্কটির অবস্থান। কাজীর দেউড়ীর মোড় বা কদমতলীর মোড় বা লালখান বাজারের মোড় দিয়ে অনায়াসে পার্কে চলে আসা যায়।

জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর : এশিয়া মহাদেশের মধ্যে জাতিতত্ত্ব বিষয়ক কেন্দ্রিক যে ক’টি যাদুঘর রয়েছে তৎমধ্যে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘরটি সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য। যাদুঘর প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দেশ-বিদেশের জনগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের বৈচিত্রময় জীবন বৈশিষ্ট। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও আধিবাসীদের জীবন প্রণারী সংক্রান্ত প্রদর্শনী স্থান েেয়ছে, তারা হলেন- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রোং, বম, প্যাং, খুকি, চাক, তংচঙ্গ্যা, রাখাইন, লুসাই, পাংখো, মনিপুরী, খাসিয়া, বোনা, পত্তিন, গারো,হাজং, দালূখান্দায়, কোচ সাঁওতাল, ওরাং রাজবংশী, নানিয়াকোচ, বাগচি, গৌখী ও আদিবাসীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

ডিসি হিল : যান্ত্রিক এ শহরের মধ্যখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডিসি হিল পার্ক, যেখানে রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, বিশাল দর্শক গ্যালারি, পাহাড়ের উঁচু নিচু ছায়া সুনিবিড় নির্মল পরিবেশে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন ঈদের দিনটিতে।

লালদীঘি পার্ক : ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি মনোরম দৃশ্যে ভরপুর। দীঘিতে বিভিন্ন রঙ-এর বর্ণিল মাছ ভেসে ভেসে খেলার দৃশ্য আপনাকেও মুগ্ধ করবে।

জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স
: চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাটে ১৬ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত হয়েছে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছ গ্রন্থাগার, অডিও ভিজুয়্যাল শিক্ষা কার্যক্রম, জাতীয় সংসদ ভবন, লালবাগ কেল্লা, রাজশাহীর সোনা মসজিদ, কার্জন হল, মহাস্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের স্থাপনা, রাইড, মনোরেল ইত্যাদি। ৭১ মিটার উঁচু টাওয়ারে নির্মিত হয়েছে ঘুর্ণায়মান রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের উপরে স্থাপিত হয়েছে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

ভাটিয়ারী লেক
: চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে সুউচ্চ পাহাড়ের উপর ভাটিয়ারী লেক। পাহাড়ের পাদদেশে জমে উঠা পানি থেকে এ লেকের সৃষ্টি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র দু’ কিলোমিটার এবং নগর হতে ১০ কি.মি. উত্তরে এর অবস্থান। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আওতাধীন এ লেকে পরিচালিত স্পীড বোটে চড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন পুরো লেক পরিদর্শন করতে পারা যাবে। নৈসর্গিক দৃশ্যপ্রেমী পর্যটকদের সুবিধার জন্য এখানে একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি ও রাজবনবিহার
: পাহাড় ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নির্জনতার শহর রাঙামাটি। পাহাড় ঘেরা নীরব প্রশান্তির এ শহর রাঙ্গামাটিতে যেতে হলে শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দুরত্বের এই শহরের উদ্দেশে প্রতিদিন ঘণ্টায় ঘন্টায় বাস ছাড়ে। যেতে সময় লাগে লোকাল বাসে তিন ঘণ্টা এবং বিরতিহীন বাসে আড়াই ঘণ্টা। রিক্সাবিহীন শহর রাঙ্গামাটিতে রয়েছে পর্যটনের মোটেল আবাসন। রয়েছে, ঝুলন্ত ব্রিজ, স্পীড বোট, ইংলিশ বোট ইত্যাদি। পাহাড়ঘেরা সুন্দর চাকমা বাড়ি রাজবনবিহার, রাঙামাটির হ্রদ সৌন্দর্য উপভোগের একটি।
সাফারি পার্ক : চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৪০/৫০ কিলোমিটার দূরত্বের চকরিয়া অবস্থিত। সাফারি পার্ক যেতে হলে কক্সবাজার গামী বাসে যেতে হবে। যেখানে উন্মুক্তভাবে চলাচল রত পশু পাখিদের দেখা যায়।

মগনামার ঘাট : চট্টগ্রামের পেকুয়া থানায় অবস্থিত মগনামারঘাট। যেখানে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর। কুতুবদিয়া সাগর সংলগ্ন এ ঘাটে প্রতিদিনই শত শত পর্যটন বেড়াতে আসে। চট্টগ্রাম শহরে থেকে যেতে হলে বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে কক্সবাজার পেকুয়ার বাসে উঠতে হবে।

পারকী সিবিচ
: আনোয়ারা থানায় অবস্থিত পারকী সি-বিচ। কর্ণফুলি নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে সারি সারি ঝাউবনের ঘেরা এই চরের পরিবেশ অন্যরকম। যা আপনাকে খুব সহজেই মুগ্ধ করবে।

এছাড়াও ঘুরে বেড়ানোর বিভিন্ন তথ্য ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটন-প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ভ্রমণ-প্যাকেজ। চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে আপনাকে সাহায্য করছে তারা। যারা ঈদকে সামনে রেখে ভ্রমণ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে দ্য গাইড ট্যুরস লিমিটেড, দ্য বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড, জার্নি প্লাস, সাফারি প্লাস, সেন্টমার্টিন ট্যুরিজম লিমিটেড, রিভার অ্যান্ড গ্রিন ট্যুরস, অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, ইনসাইটা ট্যুরিজম, হাকিল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ঈদে বন্ধু-বান্ধবী আত্মীয় স্বজনদের সময় দিতেও তারুণ্যের রয়েছে সিডিউল, কখন কাকে কিভাবে সময় দেবে, কোথায় যাবে এসব কিছু নিয়ে তারুণ্যের ভাবনার শেষ নেই। বর্তমানে লক্ষ্য করা যায়, অধিকাংশ তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থী ঈদের বাড়তি খরচ ও পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে বিভিন্ন মার্কেটে পার্টটাইম কাজও করছে। যা দিয়ে হয়তো বা তার বন্ধু বা প্রিয় মানুষটিকে গিফ্ট দেবে এবং ঘুরে বেড়াবে পছন্দের জায়গায়। ঈদের এই সময়টুকু উপভোগ করতে প্রতীক্ষায় থাকে ছোট বড় প্রত্যেকটা মানুষই।

-বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, জাআ, এসএকে


Comments are closed.