>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

হবিগঞ্জে বৃষ্টিতে কৃষি ও ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Habigonjখনার বচনে আছে ‘যদি বর্ষে আগনে রাজা যায় মাগনে’। অগ্রহায়ণ মাসের বৃষ্টি হওয়াকে কৃষির অমঙ্গল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বৃষ্টি না হলেও এ বছর বৃষ্টির আগমন কৃষিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতেই আগাম বৃষ্টি এবং বন্যাতে কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বছর জুড়েই বৃষ্টি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে। বোরো হারানোর পর আউশ এবং আমনের ভাল ফলন হয়। রবি মৌসুমের শুরুতে নভেম্বর মাসে বৃষ্টি হওয়ায় সবজি আবাদে বিঘ্ন ঘটে। বর্তমানে কৃষকরা জমি থেকে পাকা আমন সংগহ, বোরোর বীজতলা তৈরি এবং শতকালীন সবজি আবাদে ব্যস্ত ছিল। হবিগঞ্জে শুক্রবার এবং শনিবার বৃষ্টি হওয়ায় এ সব সবজি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চরহামুয়া গ্রামের কৃষক আবিদুর রহমান জানান, বৃষ্টিতে তার ফুল কপি এবং টমেটোর ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
হবিগঞ্জ শহর সংলগ্ন গ্রাম বহুলার কৃষক আব্দুল হাই জানান, বৃষ্টির কারণে তার ডাটা ও লাউ শাক ক্ষেতের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃষ্টিতে আলু এবং কফির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল ইসলাম খান জানান, শুক্রবার তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও শনিবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবার সকালে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড পাওয়া গেলে পরবর্তী রিডিং-এ এর কয়েকগুণ বৃষ্টির রেকর্ড হবে। এই বৃষ্টির ফলে আমন ধান কাটা এবং শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। বোরোর বীজ তলারও ব্যাপক ক্ষতি হবে। বিশেষ করে সবজির ক্ষতির পরিমাণ হবে বেশি। এই বৃষ্টির ফলে সবজির শৈত্য রোগ দেখা দিবে।

অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলার ইট ভাটার মালিকরা বৃষ্টির কারণের বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। মৌসুমী এই ব্যবসা আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হলেও গত ২৪ বছরের ইতিহাসে মৌসুমের এই সময়ে বৃষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার মত অভিজ্ঞতা ছিল না তাদের। ফলে খোলা আকাশের নিচে রাখা কাঁচা ইট বৃষ্টিতে বিনষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোতাব্বির হোসেন জানান, হবিগঞ্জ জেলায় ৮৭টি ইটভাটা রয়েছে। বৃষ্টিতে প্রতিটি ভাটার ৪/৫ লাখ পিস করে কাঁচা ইট ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি পিস ইট ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, ই্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি সময়ে অর্থাৎ শীতকালে উৎপাদন করা হয়। ইট ভাটার মালিকরা কাঁচা ইট শুকিয়ে কেউ আগুন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আবার কেউ আগুন দিয়েছেন। এ সময়ের বৃষ্টিতে শুধু কাঁচা ইটের ক্ষতিই হয় নাই, ইট পুড়ানোর সময় অন্তত এক মাস পিছিয়ে যাবে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির আরেক নেতা কাওসার চৌধুরী জানান, এ বছর অসময়ের বৃষ্টির জন্য অনেক ভাটার মালিক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। নভেম্বর মাসে এক দফা বৃষ্টিতে ক্ষতির জন্য এমনিতে ইট উৎপাদন মৌসুম দেরিতে শুরু হয়েছিল। এখন আরও দেরি হবে।

-বাসস

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৯.১২.২০১৭


Comments are closed.