>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

আবার মহাকাশ অভিযানে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ বিমান এক্স-৩৭বি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US air force X 37B space planeমার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তাদের চালকহীন মহাকাশ বিমান এক্স-৩৭বি অরবিটাল টেষ্ট ভেহিক্যাল বা ওটিভি আবার উৎক্ষেপণ করা হবে। চলতি মাসের ৭ তারিখ এটি উৎক্ষেপণ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এই প্রথম বারের মতো ইলন মাস্কের স্পেস এক্স ফ্যালকন ৯ রকেট থেকে এটি মহাকাশে ছোঁড়া হবে বলে মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চম দফা মহাকাশ যাত্রা করবে এক্স-৩৭বি।

মহাকাশ যাত্রায় কি ধরণের পে লোড বা মালামাল বহন করে বা পৃথিবীর কক্ষে দীর্ঘ অবস্থানকালে এটি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় সে বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে আমেরিকা। তবে এর আগে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চালকবিহীন বিমানটি ২৯ ফুট লম্বা আর উচ্চতায় ৯.৫ ফুট। ওজন ৪ হাজার ৯শ’ ৮৯ কেজি। কোন বস্তু বহণ করার জন্য এর ভিতরে ফাকা স্পেস রয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা নাসা ১৯৯৯ সালে প্রথম এক্স-৩৭ তৈরি করেছিল। মহাকাশ খেয়া হিসেবে একে তৈরি করা হয়। প্রয়োজনে কক্ষপথে স্থাপন করা যাবে এবং কাজ শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসবে অর্থাৎ বারবার ব্যবহারের উপযোগী করে মহাকাশ খেয়া হিসেবে একে বানানো হয়।

২০০৬ সালে নিজেদের ব্যবহার উপযোগী এক্স-৩৭বি তৈরির ঘোষণা দেয় মার্কিন বিমান বাহিনী। তখন থেকে এটি দিয়ে যেসব প্রকল্প বা মিশনের কাজ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই গোপন রাখা হয়েছে। মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বা গোয়েন্দা উপগ্রহের কাজে একে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

এক্স-৩৭বি প্রথম পাঠানো হয়েছিল ২০১০ সালে এবং ২২৪ দিন কক্ষপথে অবস্থানের পর তা পৃথিবীতে ফিরে আসে। এরপর আরো তিন দফা এক্স-৩৭বিকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে এবং কাজ শেষে তা ফিরেও এসেছে। প্রতিবারই ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যাণ্ডেনবার্গ বিমান ঘাঁটিতে এটি অবতরণ করেছে।

পঞ্চম দফা অর্থাৎ শেষবার এটি মহাকাশে টানা ৭১৮ দিন অর্থাৎ প্রায় দু’বছর অবস্থানের রেকর্ড সৃষ্টি করে। এরপর এক্স-৩৭বি গত মে মাসে আমেরিকায় ফিরে আসে। এটি সে সময় প্রথমবারের মতো অবতরণ করে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। অবতরণের সময় এর সৃষ্ট ‘সনিক বুম’ নামে পরিচিত প্রচণ্ড শব্দে অনেকেই চমকে ওঠেন।

অবশ্য, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্স-৩৭কে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং গোয়েন্দা উপগ্রহ স্থাপনের কাজে লাগানো সম্ভব। এ সব কৃত্রিম উপগ্রহ অস্ত্র সজ্জিতও হতে পারে। অবশ্য পেন্টাগন দাবি করছে, অস্ত্রসহ কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনায় এক্স-৩৭ ওটিভি জড়িত নয়।

এদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মহাকাশ বিমানটি আমেরিকার সামরিক কর্মসূচীরই অংশ এবং মহাকাশ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ। যুদ্ধকালীন সময়ে এ বিমানটি হয়ে উঠতে পারে মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ বিমান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। বিমানটি লেসার অস্ত্র সজ্জিত করে প্রয়োজনের সময় শত্রুর উপগ্রহগুলো অকেজো করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শত্রুর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা অকেজো করে দেয়ার কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৩.০৯.২০১৭


Comments are closed.