>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

পশুরহাটগুলোতে জাল টাকার লেনদেন বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

IGP-Shahidul 2কোরবানীর পশুরহাটগুলোতে জাল টাকার সকলপ্রকার লেনদেন বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ করে কোরবানীর পশুরহাটগুলোতে জাল টাকার সকলপ্রকার লেনদেন বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।

গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি জাল টাকা বানানো ও সরবরাহের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভায় মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক জাল টাকা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ওই সভায় পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী জাল টাকা প্রস্তুতকারী, বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের গ্রেফতারে রাজধানীসহ সারাদেশে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।

গত ২২ আগস্ট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল নোট চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ভারতীয় জাল রুপি, ১১ লাখ ৫০ হাজার জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ঈদ উপলক্ষ্যে হাট-বাজারে কোরবানীর পশু কেনাবেচা হয়। এ সময় কোরবানীর পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে নগদ অর্থের লেনদেন হয় বিধায় জাল টাকার ছড়াছড়ি বেড়ে যায়।

সভা সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদে বড় বড় শহর বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের পশুরহাটে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি জাল টাকা সনাক্ত করণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

সভার নির্দেশনা অনুযায়ী আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঈদ সামনে রেখে জাল টাকা প্রস্তুত, সরবরাহ ও লেনদেন বন্ধে তিন স্তরের গোয়েন্তা নজরদারী বাড়িয়েছে।

আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জালনোট প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারীদের গ্রেফতার করতে কিছু বিশেষ এলাকা চিহ্নিত করেছে। এ ধরনের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মার্কেট ও ব্যাংক এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। সচারাচর এ ধরনের এলাকাতে তারা ব্যাংক নোট পরিবর্তন করে জাল নোট তৈরি করে। মার্কেট ও ব্যংক এলাকা ছাড়াও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন বস্তি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। কারণ সেখানে অশিক্ষিত লোকজন বসবাস করাতে জাল টাকা সরবরাহ করতে সুবিধা হয়।

পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন জালনোট বিশেষ করে জাল ইউএস ডলার, ইউরো, পাউন্ড, সৌদি রিয়াল, রুপি ও টাকা তৈরির সঙ্গে ৩০টির বেশী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে।

তিনি জানান, জাল টাকা চক্রের সদস্যরা জালনোট বিক্রয় করতে ঢাকা, নারায়নগ্ঞ্জ, সাভার, টঙ্গি,গাজীপুর, ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন বস্তির নি¤œ আয়ের লোকজনের বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত জালনোট প্রস্তুতকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ৫০০ টাকার জালনোট তৈরি করতে ১৫০ টাকা খরচ হয়।

তিনি বলেন, এই ৫০০ টাকার জাল নোট প্রথমে ২৫০ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৩৫০ টাকা, তৃতীয় দফায় ৪০০ টাকা এবং শেষ ও চতুর্থ দফায় ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি আরো জানান, জালনোট চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের পর মামলা করা হয়, এই মামলায় তাদেরকে জেলেও পাঠানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের পর তারা আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে পুনরায় আগের একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩১.০৮.২০১৭


Comments are closed.