>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর উচ্চ আদালত কোথায় ছিল?

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Hasina PM 67প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , আমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তুু তাাঁর আদর্শ এবং নীতি নিয়েই আমরা এই দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। বাংলাদেশকে হবে বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন- ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ খাদ্যের অভাব এখন নেই কিন্তু বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্তভাবে গড়ে উঠবে। এই শোক দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। যে এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ করবো। তবেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত। আরও বক্তৃতা করেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং মুহম্মদ ফারুক খান।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ আদালত এখন বিভিন্ন বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেক রায় দেয়। অনেকে অনেক বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই উচ্চ আদালত কোথায় ছিল? তাদের বিবেক কি তখন বন্দী ছিল?’

দেশে অনেক নামকরা বিদেশী ডিগ্রি নেয়া আইনজীবি আছেন। তাঁরা মানবাধিকার নিয়ে খুব ব্যাস্ত, প্রায়ই উচ্চ আদালতে রিট করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁরা চুপ ছিলেন। এ বিষয়টি তাদের কাছে কোন গুরুত্বই পায়নি। আজ তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অনেক কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেয়নি। আমি জানি না যারা বাংলাদেশে তখন বিবেকবান ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিরা তো কোনো কথা বলেননি। বিদেশিদের মতো বিবেক কয়জন দেখিয়েছে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেইমান-মুনাফিক মোশতাক বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বেইমানরা বেশি দিন থাকতে থাকতে পারে না। মীর জাফর সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে বেইমানি করে টিকতে পারেনি, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করে মোশতাকও টিকতে পারেনি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট যে, মোশতাকের ডান হাত ছিল জিয়া। কর্নেল ফারুক তার ইন্টারভিউতে স্পষ্ট করে বলেছে। সায়েমকে হটিয়ে জিয়া পরবর্তী সমযে রাষ্ট্রপতি হন। জিয়া মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের খুন করেছে।’ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার পথ রুদ্ধ করে দেয় বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? আমাদের কি বিচার পাওয়ার কোনো অধিকার ছিল না। আজ আমার কাছে অনেকেই স্বজন হারানোর বিচার চান। একদিন এই বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমরা এই বিচারকাজ শুরু করি। প্রথমবার শেষ করতে পারিনি, দ্বিতীয় দফায় এসে এটা সম্পন্ন করেছি।’

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়াউর রহমান রক্ষা করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে জিয়া পুনর্বাসন করেছিলেন। তাদের যোগ্যতা কী? যোগ্যতা হলো তারা খুনি। তারা খুন করে জাতির পিতাকে, শিশুকে, নারীকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু নামে কেউ ছিল এটাও ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখানো হতো না। অন্যদের সঙ্গে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকলে তা ঢেকে রাখা হতো।’

ইতিহাস বিকৃত করে শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননা করেছিল বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল এর বিবরণও দেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার কন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন।’ ফাঁসির মুখেও তিনি নতি স্বীকার করেননি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নানারকম তালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন আবার নির্বাচন যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে তাদের (বিএনপি’র) আবারো নানারকম অযুহাত।’

মানুষ হত্যার রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই (বিএনপি’র) তাদের রাজনীতি। এটাই তাদের কাজ। তারা মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। কিন্তু মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। মানুষের ওপর অত্যাচার করতে পারে। মানুষকে নির্মমভাবে তারা খুন করে যায় নির্বিচারে। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে তখন খালেদা জিয়া ঘরে ফিরে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি বলেই জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, মানি লন্ডারিং মামলার বিচার করেছি, শাস্তি পেয়েছে তার ছেলে (খালেদা জিয়ার)।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেই আজকে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তাইতো সারাবিশ্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিটি সদস্যা আমরা সমাধান করেছি। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের কাছে বিস্ময়। এটা আমরা করতে পেরেছি একটাই কারণে যে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে তাঁর নীতি অনুসরণ করে তার প্রদর্শিত পথে এই দেশ পরিচালনা করছি। যখনই একটু ভালো কাজ করি আমার শুধু মনে হয় নিশ্চই আমার আব্বার আত্মাটা শান্তি পাবে। যে তাঁর দেশের মানুষ ভালো আছে।

সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বন্যা হয়েছে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি একটা মানুষও যেন কষ্ট না পায়। ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে পয়সা দিয়ে আমরা খাদ্যশস্য কিনে নিয়ে আসছি। যেন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা খাদ্য পৌঁছে দিতে পারি। যারা গৃহহারা তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। রোগের প্রাদুর্ভাব যেন না দেখা দেয় তার জন্য আগাম আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, ওষুধপত্র কোন কিছুর যেন অভাব না থাকে। এখন বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেন পুনরায় চাষবাস করতে পারে তারজন্য যা যা করার সব ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তুু তাাঁর আদর্শ এবং নীতি নিয়েই আমরা এই দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। বাংলাদেশকে হবে বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন- ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ খাদ্যের অভাব এখন নেই কিন্তু বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্তভাবে গড়ে উঠবে। এই শোক দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। যে এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ করবো। তবেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৮.২০১৭


১ মন্তব্য

  1. মুসা

    রোহিঙ্গাদের সাহায্য করুন, আপনাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে ! ইনশাল্যাহ !