>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

শিমুলিয়া ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার পুলিশ র‌্যাব কোস্টগার্ড ও আনসার মোতায়েন

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Ferry Ghat Shimuliaআসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তায় শিমুলিয়া ঘাটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের নৌরুট নির্বিঘ্নে পারাপারের লক্ষ্যে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘাট এলাকায় সিসি ক্যামেরাসহ ওয়াচ টাওয়ার এবং অস্থায়ী অভিযোগ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত কেরেছেন। তিনি জানান, ঘাট এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে জেলা পুলিশের সাড়ে ছয়শ’ সদস্য কাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের নির্বিঘোন পারাপারের জন্য মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ট্রাক চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ট্রাকগুলো শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজদিখান কুচিয়ামোড়া সিটি মাঠে রাখা হয়েছে । বুধবার সকাল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তিন দিন এই নৌরুটে সকল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। অনুরূপ বন্ধ থাকবে ঈদের পরের তিন দিনও।

জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে। ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘেœ পারাপারে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বহরে ফেরি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক ঘাটে রয়েছেন। কোন অনিয়ম হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাওয়া মানুষের যাতে পথে কোন বিড়ম্বনা সৃষ্টি না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সার্কেল এসপি (লৌহজং) কাজী মাকসুদা লিমা জানান, যাত্রী নিরাপত্তায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের কাছে যদি কেউ অভিযোগ করে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিব। যাত্রীদের নিরাপদে ঘর যাত্রায় আমরা কোন ধরনের ছাড় দেবনা।

শিমুলিয়া ঘাটে তীব্র স্রোত ও বাতাসের কারণে নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে গেছে। আবার কোরবানীর গরু বহনের কারণে ট্রাকের চাপও বেড়েছে। ফেরি স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পারায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়াঘাটে যানবাহনের চাপ বেশী।

বুধবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ দেখা যায়। গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায় সকল ঘাট পয়েন্টেই। ১৮টি ফেরি, ৮৭ টি লঞ্চ এবং তিন শতাধিক স্পিড বোটে করে পার হচ্ছেন যাত্রীরা।

শিমুলিয়ার বন্দর কর্মকর্তা (ট্রাফিক) সোলাইমান জানান, সবগুলো লঞ্চ চলাচল করছে। সকালের দিকে লঞ্চঘাটে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকায় কিছু কিছু যাত্রী নিজেরাই ওভারলোডিং হয়ে লঞ্চে উঠেছেন।এতে কিছুটা ওভারলোডিং হলেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, ওভারলোডিং ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ অন্যান্য মোবাইল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সীবোট কাউন্টার আর পন্টুনেও ভীড় ছিল লক্ষনীয়। দ্রুত পদ্মা পাড়ি দিতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন স্পীডবোট।

এদিকে শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ি ফেরি রুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। বুধবার দুপুরে এই বহরে যোগে দিতে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন শিমুলিয়া ঘাটে পৌছে। কিন্তু এই রুটে এই ফেরিটি চলাচলে অসুবিধা থাকায় তা ফেরত পাঠানো হয়। এর স্থলে রোরো ফেরি এনায়েতপুরী বহরে যোগ দেয়। বিকালে মিডিয়াম ফেরি ঢাকা ঘাটে এসে পৌছেছে। তবে ফেরিটি বৃহস্পতিবার থেকে অপারেশন শুরু করবে।

শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ নেওয়াজ খালেদ বিকাল পৌনে ৫টায় জানান, এই মুহূর্তে ঘাটের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখনও উপচে পড়া ভীড় আছে তবে তা সহনীয়। তিনি আরও বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত ও বাতাস রয়েছে। ফলে নির্ধারিত এক ঘন্টা ২০ মিনিটের পরিবর্তে ফেরিগুলোকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি পৌছাতে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে। পদ্মায় ¯্রােতের তীব্রতাও বেড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে নৌরুটটিতে ফেরি চলাচলে বিঘিœত হচ্ছে। চ্যানেলে পলি জমছে। তবে ড্রেজার নিয়মিত তা অপসারণ করায় ফেরি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুর রহমান জানান, ঈদে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ঘরমুখো মানুষ বাড়ি ফিরছে । মহাসড়কে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুন বেশী যান চলাচল করছে। আর মেঘনা ও গোমতী সেতুর সংযোগ সেতু চার লেন অন্যদিকে সেতু দুই লেনের হওয়ায় থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৮.২০১৭


Comments are closed.