>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে ভাঙন: গুরুং ও তামাং দুই মেরুতে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Gutung and Tamangভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকে যে আন্দোলন চলছে তাতে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং এবং মোর্চা নেতা বিনয় তামাংয়ের মধ্যে মতবিরোধের জেরে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড় সমস্যা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। সেখানে পাহাড়ে চলমান বনধ-অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ওই বৈঠকে বৈঠকে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার নেই বলে জানিয়েছেন। তা হলে তখনই ওরা (মোর্চা প্রতিনিধিরা) বৈঠক থেকে বেরিয়ে এলেন না কেন? ওরা যা করেছেন, তাতে আমি খুশি নই। ওরা ফিরে আসার পর সব শুনে ঠিক করব। এত লোক মরেছে, এখনই বনধ তুলব না।’

বিনয় তামাং পাল্টা মন্তব্যে বলেছেন, ‘আমরা বৈঠকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি জানিয়েছি। তা সত্ত্বেও ‘ওয়াক আউট’ করে চলে আসব কেন?’ এই প্রথম কোনো দল সরকারের সঙ্গে বৈঠকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলে ধরল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

গুরুংকে টার্গেট করে বিনয় তামাং কটাক্ষ করে বলেন, ‘যিনি দার্জিলিংয়ে নেই, তার কথার কী মূল্য আছে! এটা বলতে পারি, গোর্খ্যাল্যান্ডের দাবিতে বহু দিন জেল খেটেছি। আমার হারানোর কিছু নেই।’

এদিকে, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে মঙ্গলবারও পাহাড়ে মিছিল বেরোয়। শহরের রেল ষ্টেশন থেকে বেরোনো মিছিল চকবাজারে গিয়ে শেষ হলে সেখানে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডি কে প্রধান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যে দলেরই সরকার হোক না কেন কেউই পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি মানবে না।’

তার দাবি, বাংলায় গোর্খারা সুরক্ষিত নয় এজন্য পৃথক গোর্খাল্যান্ড হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে আন্দোলনে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, ‘গোর্খারা সংখ্যালঘু, তাদের কাছে তিন বিধায়ক ও এক এমপি রয়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের কথা শোনা হচ্ছে না। গোর্খাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এসব সত্ত্বেও এখানকার এমপি এস এস আলুওয়ালিয়া নিশ্চুপ হয়ে আছেন! গোর্খা নেতাদের ধরপাকড় করলে এবং বিভিন্নস্থানে পুলিশি তল্লাশিতে গোর্খাদের আওয়াজ বন্ধ করা যাবে না। বরং আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে।’

গোর্খাল্যান্ড না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ডি কে প্রধান হুঁশিয়ারি দেন।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৮.২০১৭


Comments are closed.