>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

অষ্ট্রেলিয়া বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ এখন কতটা আগ্রাসী দল : মুশফিকুর

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

mushfiqur-rahim 3চার দিনে শেষ হলো বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়ার ঢাকা টেষ্ট। এই চার দিনে বেশিরভাগ সময়ই অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে বাংলাদেশ। এতে বেশ কোনঠাসাই ছিলো অসিরা। শেষ পর্যন্ত অষ্ট্রেলিয়াকে হারের ঢেকুঁর তুলতে বাধ্যও করেছে মুশফিকুরবাহিনী।

এমন হারে অষ্ট্রেলিয়া বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ এখন কতটা আগ্রাসী দল বলে মনে করেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম, ‘ওদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাবতো অবশ্যই ছিল। তবে ওরাও বুঝেছে বাংলাদেশও কতটা আগ্রাসী হতে পারে। শুধু ব্যাট-বল না শারীরিক ভাষাতেও ওরা সেটা টের পেয়েছে। আজ যদি লক্ষ্য করে থাকেন দেখবেন, লাঞ্চের ৬ মিনিট বাকি ছিল। তখন ম্যাক্সওয়েল প্রায় ৫ মিনিটই সময় নিচ্ছিল যেন ওই ওভারের পর আর কোনো ওভার না হয়। বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করা অসিরা এমন ব্যাকফুটে চলে গেছে যে, তারা চাচ্ছে না যে আরেকটা ওভার খেলি। এটা তো অনেক বড় একটা বার্তা। এমনকি আমাদের টেলএন্ডার যারা ব্যাটিং করতে গেছে তাদের বিপক্ষেও ওরা স্লেজিং বলেছে। শুধু সিনিয়ররা না জুনিয়রদেরও ওরা অনেক স্লেজিং করেছে। ওরা জানে এই উইকেটে একটা-দুইটা রান কত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, ওরা আমাদের জুনিয়রদের অনেক কথা বলেছে যা কি না আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা যে আগের জায়গায় নেই সেটা ওরা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে। বাংলাদেশ আগের অবস্থানে নেই। যে কোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু খেলোয়াড় আছে সেটা ওরা বুঝেছে। ভালো একটা ম্যাচ গেছে। এখন আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আমাদের সিরিজ জয়ের দিকে নজর দিতে হবে, যা আমরা করতে চাই। এমন সুযোগ সব সময় আসে না। এমন চাপে অষ্ট্রেলিয়া দল সব সময় থাকে না।’

অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেষ্টের জয়কে অনেক বড় অর্জন বলছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা তো অনেক বড় একটা অর্জন। এখন বলতে পারি এই ম্যাচটা ঐতিহাসিক ছিল। আপনারা বলছিলেন, ১১ বছর পর খেলা। ম্যাচ কোনো দিন ঐতিহাসিক হয়। ফলের কারণে হয়তো কোনো ম্যাচকে মনে রাখা যায়। এটাকে আমি অনেক বড় অর্জন বলবো। অষ্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী দল । সাম্প্রতিক সময়ে উপমহাদেশে অষ্ট্রেলিয়ার রেকর্ড খুব একটা ভালো না হলেও ওরা কিন্তু এখানে প্রায় সবাইকেই নিয়েই এখানে এসেছে। আমার মনে হয় চার দিন লড়াই করেছি, সব সময় ওদের সঙ্গেই ছিলাম। আমি বলবো, আজকে ওরা একটু এগিয়ে ছিল। তারপরও উইকেট স্পিনারদের জন্য সহায়ক ছিল। আর ওদের ওপরের দুই ব্যাটসম্যান ছাড়া আর যারা আছে তাদের এই ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা কমই আছে তাতে এতটুকু বিশ্বাস আমাদের ছিল। এই জয়গুলো আমাদের মতো দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলে। এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলো সব সময়ই কাজে লাগে। আবার যখন এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়বো আরও ভালোভাবে সামলাতে পারবো আমরা।’

অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ জয় সম্ভব আবারো বলছেন মুশফিকুর, ‘আমরা আগে বলেছি সম্ভব। এটা তো অসম্ভবের কিছু না। এটা শুধু অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নয়, যে কোনো দলের বিপক্ষেই সম্ভব। কারণ হোম কন্ডিশনের শক্তিটা আমরা জানি। সব মিলিয়ে বলবো যে, এটা সহজ নয়। গত চারটা দিন অনেক কষ্ট করেছি। ওরাও অনেক লড়াই করেছে। শেষ পর্যন্ত ওদের লোয়ার অর্ডারও অনেক চেষ্টা করেছে। এটা বড় একটা সন্তুষ্টি। একই সঙ্গে এটা আমাদের শিক্ষাও। যতো বড় দলই হোক না কেনো, এই কন্ডিশনে আমরা যে কোনো পরিস্থিতিতে জিততে পারি। কেউ হয়তো বলতে পারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা কোনোমতে জিতে গেছি। কিন্তু এখন আর সেটা বলতে পারবে না। কারণ দুইটা বিশ্বমানের দলের সঙ্গে এটা সম্ভব নয়। এখানে আমাদের চারদিন ধরে ভালো খেলতে হয়েছে। এখানে ইতিবাচক দিকগুলো আমরা নিবো। একই সঙ্গে আমরা আরো উন্নতি করতে চাইবো।’

অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে পারবেন না বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। তাই ঈদে বাবা-মাকে মিস করবেন বলে জানান মুশফিকুর, ‘ঈদে বাবা-মাকে মিস করবো। শুধু আমি একা নই, খেলার কারণে সবাই মিস করবে। এই ত্যাগ করে যদি দেশকে কিছু দিতে পারি, সেটা অনেক বড় ব্যাপার।’

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৮.২০১৭


Comments are closed.