>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

কেউ না খেয়ে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Hasina PM 9প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি শুরু করেছে, যাতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা না দেয়।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অনুদানের চেক গ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কেউই ক্ষুধার্ত ও গৃহহীন থাকবে না এবং সবাই স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা পাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বন্যার সময় যারা নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে, তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি পুনঃনির্মাণেও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণে কাজ করেছে। পাশাপাশি জনগণের মৌলিক চাহিদার পূরণের মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি এবং সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। এ ধারাবাহিকতার কারণে উন্নয়নের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণ এর সুফল পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের মূল নীতি হচ্ছে তৃণমূল জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সে অনুযায়ী আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেট তৈরি এবং তা বাস্তবায়ন করছি। ফলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে। এ দুর্যোগকে মোকাবেলা করে আমরা এগিয়ে যাবো। আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছি যে, আমরা এসব দুর্যোগ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যাতে তারা আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে আসছে। আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আমাদের সরকার খুবই সতর্ক রয়েছে এবং জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে যে অনুদান পাওয়া যায় তা দিয়ে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা করা হয় না, বরং বিভিন্ন খাতে যেমন- কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকরাও তাদের প্রয়োজনের সময় এই তহবিল থেকে সহায়তা পান।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আপনাদের এই অনুদান আর্তমানবতার জন্য সহায়ক হবে এবং এর মাধ্যমে আপনাদের মানবিকতাও দৃশ্যমান হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশকে পুনর্নির্মাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পরে ১০ বছর বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হতো।

তিনি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধশালী ও উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর দানের চেক হস্তান্তর কর হয়। এরমধ্যে ছিলো- নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন, বাংলাদেশ এডমিনেস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ।

এছাড়া এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, কনফিডেন্স গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকাশ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারি লীগ, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, খুলনা জেলা বার এসোসিয়েশন, ফরেন অফিস স্পাউসেস এসোসিয়েশন, সৎসংঘ বাংলাদেশ, ভিরগো গ্লোবাল, বনফুল এন্ড কোম্পানি, আওয়ামী লীগ মালয়েশিয়া শাখা এবং খুলনা মহানগর শাখার সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক স্বপন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহ্সানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৮.২০১৭


Comments are closed.