>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

ভোলার পশুর হাটগুলোতে দেশী গরু-ছাগলের চাহিদা বেশি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Bhola Cattle Marketআসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলার পশুর হাটগুলোতে দেশী গরু-ছাগলের চাহিদা বেশি রয়েছে। ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকায় এখানকার স্থায়ী ৫৬ ও অস্থায়ী ৪২টি হাট জমে উঠেছে। ছোট-মাঝারি, বড়সহ বিভিন্ন আকারের গরু-ছাগল নিয়ে ব্যাপারী ও গৃহস্থ বিক্রেতারা এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে। তাই ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষা-কষি ও হাঁক-ডাকে মুখরিত পশুর হাটগুলো।

সরেজমিনে উপজেলা সদরের ভোলার হাট, ব্যংকের হাট, ইলিশার হাট, পরানগঞ্জ হাট, গজারিয়ার হাট, ভেলুমিয়া হাট, গুইঙ্গার হাট, বাংলাবাজার হাট, বোরহানউদ্দিনের খায়ের হাট, কুঞ্জের হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায় বহু দেশি গরু-ছাগলের সমাহার ঘটেছে। তবে বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে হাটগুলোতে। কিছু হাটে ভারতের গরু আসলেও দেশি গরুই পছন্দ স্থানীয় ক্রেতাদের। এছাড়া হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৭টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ও ১৯টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানি ঘনিয়ে আসায় হাটে পশু বিক্রি দিন দিন বেড়েছে। সাধারনত ছোট গরু ৩৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি গরু ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং বড় গরু ১ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট ছাগল ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, মধ্যম সাইজ ছাগল ৯ থেকে ১৩ হাজার টাকা ও বড় ছাগল ১৫ হাজার টাকার উপরে দাম রয়েছে।

তারা আরো জানান, অধিকাংশ দেশি গরুকে সবুজ ঘাস, ভাত, খৈল ভুসির পাশাপাশি ইউরিয়া সার-খর মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। খামারিদের পাশাপাশি স্থানীয় গৃহস্তদের পালিত প্রচুর মোটা-তাজা গরু উঠেছে হাটে। কোন রকম ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই এসব গরু হৃষ্ট-পুষ্ট করা হয়।

ভোলার হাটে আলীনগর গ্রাম থেকে মো. রুবেল নিজের পালিত একটি বিশাল গরু নিয়ে এসেছেন। দাম চান ২ লাখ টাকা। ২ বছর ধরে তিনি গরুটিকে পেলেছেন। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত গরুটির দাম উঠেছে। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলে তিনি গরুটি বিক্রি করবেন। ইলিশা থেকে আসা ফারুক মাঝি ৪টি গরু নিয়ে এসেছেন। নিজের খামারে তিনি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিকভাবে মোটা-তাজা করেছেন গরুগুলোকে। তিনি জানান, তার সবচেয়ে বড় গরুটির দাম চাচ্ছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দাম উঠেছে ১ লাখ ২৫ পর্যন্ত। অন্য ৩টি’র মধ্যে ১টির দাম চান ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আর ২টি মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে চাচ্ছেন।

অন্যদিকে এবারের পশুর হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগলের সরবরাহ চোখে পড়ার মত। আকর্ষণীয় রং, শিং ও আকারের ছাগল নিয়ে জমজমাট ছাগলের হাট। ইলিশার হাটে ছাগল নিয়ে আসা খামারি আব্দুর রহমান বলেন, তিনি মাঝারি আকারের ৮টি দেশি ছাগল নিয়ে এসেছেন। ৯ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে এগুলোর মূল্য ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩টি ছাগল বিক্রি করেছেন তিনি। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি তিনি। কলেজ ছাত্র রবিন মাহমুদ হাটে এনেছেন বিরাট এক ছাগল। দাম চেয়েছেন ২৭ হাজার টাকা। তবে ২২ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন।

এদিকে এবছর জেলায় কোরবানিতে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। জেলায় কোরবানির জন্য সম্ভাব্য প্রয়োজন ৯৭ হাজার ৯২৬টি পশু। আর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৭০ গরু, ছাগল ও মহিষ। জেলার মোট ১৩’শ ৭৫টি খামারে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে গরু মোটা-তাজা করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর বাসস’কে জানান, জেলায় কোরবানিতে যে সংখ্যক পশু মজুদ আছে, তাতে ঈদে পশুর কোন ঘাটতি থাকবেনা। হাটে রুগ্ন, অসুস্থ বা ইঞ্জেকশন দেয়া গরু যাতে না প্রবেশ করতে পারে সে জন্য ৭টি মেডিকেল টিমের ১৯টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব টিম গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সচেষ্ট আছে। তিনি আরো বলেন, ইন্ডিয়া বা অন্য জেলা থেকে এখানে গরু আনার দরকার পড়েনা। বরং এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু পাঠানো হয়।

গরু কিনতে আসা আব্দুল মান্নান ও আইয়ুব আলী বাসস’কে বলেন, এ বছর গরুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। হাটগুলোতে প্রচুর গরুও রয়েছে। তারা ৬৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। হাটের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

এছাড়া পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূপার (এসপি) মো: মোকতার হোসেন জানিয়েছেন, পোশাকধারী পুলিশ, ডিবি, ডিএজবি পুলিশের পাশাপাশি হাটগুলোর আশপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। হাটগুলোতে খোলা হয়েছে পুলিশের কন্ট্রোল রুম। স্থাপন করা হয়েছে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে এসপি জানান।

-বাসস

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৯.০৮.২০১৭


Comments are closed.