>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

পরমাণু ইস্যুতে রেডলাইন অতিক্রম করবে না ইরান : কাসেমি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Bahram Qassemi 56ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র নীতিমালার প্রতি তেহরানের অবিচল থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, পরমাণু ইস্যুতে আমরা কখনই রেডলাইন অতিক্রম করব না।

একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে তারও কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহিও কুয়ানটাম প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রথম জাতীয় সম্মেলনের অবকাশে সাংবাদিকদের বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা এতো সহজে অর্জিত হয়নি যে তা সহজেই বাতিল হয়ে যাবে।

ইরানের কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের তৎপরতারই জবাব। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সম্প্রতি ভিয়েনা সফরে গিয়ে পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়েছেন। তিনি গত ২৩ আগস্ট ভিয়েনায় আইএইএ’র প্রধান ইউকিয়া আমানোর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে দাবি করেছেন, “পরমাণু সমঝোতায় ইরানের সামরিক কিংবা বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শনের ব্যাপারে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিকি হ্যালির এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা এখনো আইএইএকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায়। কিন্তু পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ইরানের নীতি অবস্থান স্পষ্ট। আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতার ধরন কেমন হবে তাও নির্ধারণ করা আছে। পরমাণু সমঝোতার বহু আগে থেকেই ইরান এ পর্যন্ত আইএইএ’র সঙ্গে সর্বোত্তম সহযোগিতা বজায় রেখেছে। আইএইএও একাধিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আইএইএ’র ওপর আমেরিকার প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এই সংস্থার গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

শুধু মার্কিন চাপের কারণে এর আগে আইএইএ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু পরমাণু সমঝোতার পর আইএইএ যদি পূর্বের নীতিতে ফিরে যায় অর্থাৎ মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাহলে এই সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হবে। আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীনকেও ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে বড় বড় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। টোটালের মতো ইউরোপের বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলো ইরানে পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। চীন ও রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক হাসান বেহেশতিপুর পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, একদিকে আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা উঠিয়ে নেয়নি। কারণ আমেরিকা এখনো এটাকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। অন্যদিকে আমেরিকা ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ারও চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকে।

যাইহোক, মূলত আমেরিকা পরমাণু সমঝোতার বিরোধী নয় বরং তাদের সামনে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী শাসন ব্যবস্থা। কারণ তারা ভালো করেই জানে ইরানে যতদিন ইসলামি শাসন ব্যবস্থা টিকে থাকবে ততদিন তারা আমেরিকার কাছে নতি শিকার করবে না।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৮.০৮.২০১৭


Comments are closed.