>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ব্যবসায়ীকে খেলাপি করে নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসেন ব্যাংকাররা : অর্থমন্ত্রী

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Muhit 4সরকারের সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এসব ব্যাংকের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

এ ছাড়াও, ব্যাংকের দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের ঘটনার জন্য ৯০ শতাংশ দায়ী পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা। আর তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতি পেয়ে শীর্ষ নির্বাহী হওয়া কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় দিন দিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

শনিবার ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা :চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ প্রসংগে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব ইকোনোমিকস এন্ড পিস – এর প্রেসিডেন্ট ড: আরিফুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও ব্যাংকের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের যে সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে তা যথার্থ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত খেলাপি ঋণের জন্য ব্যাংকারদের দায়ী করে বলেন, যখন কোনো ব্যবসায়ী ভালো কোনো প্রকল্প নিয়ে ঋণ নিতে আসেন, তখন ব্যাংক তার ঋণের প্রথম কিস্তি দেওয়ার পর বাকি অর্থ আর সময়মতো দেয় না। এভাবেই ওই ব্যবসায়ীকে খেলাপি করে নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসেন ব্যাংকাররা।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, একটা ব্যাংক লালবাতি জ্বালালে পুরো আর্থিক খাত ও অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। কোনো ব্যাংক যাতে লাঠে না উঠে সে জন্যই জনগণের করের টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলোকে মূলধন পুনঃভরণ দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকে বড় দুর্নীতি হয়েছে। ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ৭০-৭১ জনের কাছে আছে। এটি দিনে-দুপুরে ডাকাতির চেয়েও বড় ঘটনা। যেভাবেই হোক আজ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এক্ষেত্রে দুদকেরও সীমাবদ্ধতা আছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে বড় বিষয়।’

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,ব্যাংকগুলোতে অবশ্যই দুর্নীতি আছে। তবে তার চেয়ে বেশি যায় অপচয়ে। তিনি বলেন, ‘কেউ দুধ খাওয়ার কথা বলে ঋণ নিয়ে যদি মধু খায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই। একমাত্র শর্ত হতে হবে ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা ঠিকমতো ফেরত দিচ্ছে কি-না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকিং খাত পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো বিরোধ নেই। সরকার যে পরিচালক নিয়োগ দেয়, তা নিয়ম মেনেই দেয়। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর উন্নয়নে ব্যর্থতা ও অনিয়মের জন্য শাস্তি এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৭.০৮.২০১৭


Comments are closed.