>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

আমেরিকায় বর্ণবাদের পুনরুত্থান শান্তিবাদীদের প্রতিবাদ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Anti racism rally in USআমেরিকায় বর্ণবাদী উত্তেজনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক এক উগ্রবর্ণবাদী পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্ষমা করে দেয়ার একই সময়ে লস এ্যাঞ্জেলেসে বর্ণবাদ বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সমাজে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও উগ্রডানপন্থীদের তৎপরতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবিকারী বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গরা গোল্ডেন গেটে সমাবেশ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সমাজে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আন্দোলনকারীদের এখনো বহুপথ পাড়ি দিতে হবে। বিশেষ করে বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গ ও উগ্র ডানপন্থীদের কট্টর সমর্থকরা হোয়াইট হাউজে শক্ত আসন গেঁড়ে বসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু যে বর্ণবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছেন তাই নয়, একই সঙ্গে সম্প্রতি বর্ণবাদী এক পুলিশ কর্মকর্তাকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যার ফলে লস এ্যাঞ্জেলেসে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তা জো আরপাইওর বিরুদ্ধে বহুবার ল্যাটিন আমেরিকার নাগরিকসহ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও জুলুম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সে এতো বেশী বেপরোয়া হয়ে পড়েছিল যে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতাবলে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। বেশ ক’জন কংগ্রেস সদস্যসহ আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্টের ওই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানান। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের প্রধান পল রাইয়ান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরণের ক্ষমার ফলে সরকারের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠবে।

আমেরিকার দীর্ঘ ইতিহাসে বর্ণবাদ কেন্দ্রিক সহিংসতার বহু নজির রয়েছে। তবে অনেক বছর ধরে আমেরিকায় বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী ও বর্ণের মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিশেষ করে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ঘুমিয়ে পড়া বর্ণবাদের দৈত্য আবারো জেগে উঠেছে। উগ্রবর্ণবাদী স্বেতাঙ্গরা সহিংসতার মাধ্যমে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে চার্লস্টোন শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের গির্জায় স্বেতাঙ্গদের গুলিবর্ষণের মধ্যদিয়ে ফের সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওই হামলায় আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ৯ মার্কিনী নিহত হয়েছিল। এর পর কিছুদিন আগে শর্লটসউইলে টাউনে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে এক উগ্র বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গের হামলায় এক নারী নিহত হয়। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক বিষয়ক জাতীয় পরিষদের প্রধান গেরি কুহেনও বর্ণবাদীদের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নমনীয় নীতির সমালোচনা করেছেন।

যাইহোক, উগ্র বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহমর্মীতার প্রতিবাদে আমেরিকার বিভিন্ন শহরের জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে এবং বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৭.০৮.২০১৭


Comments are closed.