>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

২৬০ রানে থামল বাংলাদেশ অষ্ট্রেলিয়াও চাপের মুখে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Australia vs Bangladesh test matchসাকিব আল হাসানের ৮৪ ও তামিম ইকবালের ৭১ রানের কল্যাণে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে দিনের শেষভাগে ৯ ওভার ব্যাট করে বিপদে পড়ে গেছে অসিরা। ১৮ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছে অষ্ট্রেলিয়া। তাই ৭ উইকেট নিয়ে এখনো ২৪২ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।

সকালের ঝলমলে রৌদ্রে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু শুরুটা ঝলমলে হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১০ রানেই ৩ উইকেট হারায় টাইগাররা। বাংলাদেশ ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ওপেনার সৌম্য সরকারকে বিদায় দেন অষ্ট্রেলিয়ার ডান-হাতি পেসার প্যাট কামিন্স। নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে আবারো বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানেন কামিন্স। এবার শিকার তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস। রানের খাতা খোলার আগেই সাজ ঘরে ফিরেন তিনি।

ইমরুলকে ফেরানোর পরের ডেলিভারিতেই চার নম্বরে নামা সাব্বির রহমানকে তুলে নেন কামিন্স। শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে সাব্বিরকেও। তাই ৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১০ রান। ২০০৪ সালের পর আবারো এমন বিপর্যয় ঘটলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে। সর্বশেষ ১৩ বছর আগে ঢাকা টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিলো টাইগাররা।

১৩ বছর আগের পুরনো স্মৃতি আজ ফিরে আসলেও, তা হয়তো জানতেন না ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। দেশের হয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা তামিম ও সাকিব এবার দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে খেলা ফেরানোর পণ করেন।

শুরুতেই সর্তক ছিলেন তামিম-সাকিব। উইকেটে সেট হয়ে যাবার পর উইকেটের চারপাশ থেকে অনায়াসেই রান তুলেছেন তারা। তাই ৩ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে মধাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এসময় তামিম ২টি ছক্কা ও ১টি চারের সহায়তায় ৯১ বলে ৩৩ রান সাকিব ৭টি বাউন্ডারিতে ৬২ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির শেষে পরের ওভারেই ২ রান নিয়ে ৬৫ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া থেকে বাদ পড়েননি তামিম। নিজের ১১৯তম বলে ক্যারিয়ারের ২৩তম অর্ধশতক নেন তামিম।

হাফ-সেঞ্চুরির পরও ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন তামিম-সাকিব। তাতে চিন্তিত হয়ে পড়েন অষ্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তাই ৪২তম ওভারে অকেশনাল বোলার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে বল তুলে দেন অসি দলপতি। প্রথম দু’ওভারে স্মিথকে হতাশই করেন ম্যাক্সওয়েল। তবে নিজের তৃতীয় ওভারে তামিম-সাকিব জুটি ভাঙ্গেন তিনি। কাট করতে গিয়ে যুতসইভাবে ব্যাট-বলের স্পর্শ ঘটাতে না পেরে ৩টি ছক্কা ও ৫টি চারের মারে ১৪৪ বলে ৭১ রান করে থেমে যান তামিম। ফলে ভেঙ্গে যায় চতুর্থ উইকেটে তামিম-সাকিবের ১৫৫ রানের জুটি। অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। অসিদের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের আগেরটি সর্বোচ্চ রানের জুটিটি ছিলো শাহরিয়ার নাফীস ও মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ৫০ রানের জুটি গড়েছিলেন নাফীস ও অ্যাশ। আর সব মিলিয়ে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিতে এটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

তামিম ফিরে যাবার ২৩ রান পর থেমে যান সাকিবও। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে অষ্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লিঁও বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সাকিব। সাকিব ১১টি চারে ১৩৩ বলে ৮৪ রান করে থামেন। দ্বিতীয় সেশনে সাকিব-তামিমকে হারিয়ে ৫ উইকেটে ১৯০ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। এসময় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ১২ ও নাসির হোসেন শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন।

চা-বিরতির পর উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলতে হয় মুশফিকুরকেও। সফরকারীদের বাঁ-হাতি স্পিনার অ্যাস্টন আগারের বলে লেগ বিফোর ফাঁেদ পড়েন মুশি। আম্পায়ারের আউটের সিদ্বান্তের পর ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নেন মুশি। তাতে কোন কাজ হয়নি। তাই ২টি চারে ৫০ বলে ১৮ রানেই থামতে হয় তাকে।

মুশফিকুর ফিরে যাবার পর জুটি বাঁধেন নাসির হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। এই জুটির মাঝে ৬৭তম ওভারের চতুর্থ বল পর বৃষ্টির কারনে ৩৪ মিনিট খেলা বন্ধ ছিলো। বৃষ্টি শেষে আবারো খেলা শুরু হলে, নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি মিরাজ। অষ্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার লিঁও’র ডেলিভারি ফ্রন্টফ্রুটে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হলে শর্ট লেগে মিরাজের ক্যাচ নেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। এতে জোড়ালো আবেদন করে বসেন অষ্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা। সেই আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। ফলে আউট হন মিরাজ। অবশ্য আম্পায়ারের এমন সিদ্বান্ত মেনে নিতে পারেননি মিরাজ। ডিআরএসের সুযোগ না থাকায় অসন্তুষ্ট হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। দু’টি ডিআরএস ব্যবহার করেন সাব্বির ও মুশফিক। ৩৮ বল মোকাবেলা করে ২টি চারের সহায়তায় ১৮ রান করেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে নাসিরের সাথে ৪২ রান যোগ করেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগেরটি ছিলো ২৭ রানের। ২০০৩ সালে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭ রান করেছিলেন খালেদ মাসুদ ও খালেদ মাহমুদ।

২৪০ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরাজ বিদায় নিলেও বাংলাদেশের আশা-ভরসা হিসেবে ক্রিজে টিকে ছিলেন নাসির। কিন্তু আশা-ভরসার প্রতিদান দিতে পারেননি নাসির। ব্যক্তিগত ২৩ রানে আগারের দ্বিতীয় শিকার হন নাসির। ৬১ বলের ইনিংসে ৩টি বাউন্ডারি মারেন তিনি। এরপর দশম ব্যাটসম্যান শফিউলের ১৭ বলে ৩টি চারে ১৩ রানের কল্যাণে আড়াইশ পেরিয়ে ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অষ্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্স ও দুই স্পিনার নাথান লিঁও-অ্যাস্টন আগার ৩টি করে উইকেট নেন। অন্য উইকেটটি নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

দিনের শেষভাগে ব্যাট হাতে জবাব দিতে নেমে সাবধানী শুরু অষ্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ম্যাট রেনশ’র। বাংলাদেশের পেসার শফিউলের পেসের তোপে বেশ কয়েকবার পরাস্তও হন ওয়ার্নার। তাই কিছুটা সর্তকও হয়ে যান ওয়ার্নার। কিন্তু ওয়ার্নারকে ছুটি দিয়ে দেন মিরাজ। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়ার্নারকে তুলে নিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু ডিআরএস নিয়ে এ যাত্রায় বেঁেচ যান ওয়ার্নার। তবে পরের ডেলিভারিতেই ওয়ার্নারকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। তাই নামের পাশে ৮ রান রেখে আউট হন ওয়ার্নার।

ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠে বাংলাদেশ। এরপর তিন নম্বরে নামা উসমান খাজাকে রান আউট ও নাইটওয়াচম্যান লিঁওকেও বিদায় দেয় বাংলাদেশ। লিঁওকে শিকার করেন সাকিব। ৩ উইকেট হারানোর পর দিনের শেষভাগে আর কোন ক্ষতি হয়নি অষ্ট্রেলিয়া। দিন শেষে রেনশ ৬ ও অধিনায়ক স্মিথ ৩ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের মিরাজ ও সাকিব ১টি করে উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
তামিম ইকবাল ক ওয়ার্নার ব ম্যাক্সওয়েল ৭১
সৌম্য সরকার ক হ্যান্ডসকম্ব ব কামিন্স ৮
ইমরুল কায়েস ক ওয়েড ব কামিন্স ০
সাব্বির রহমান ক ওয়েড ব কামিন্স ০
সাকিব আল হাসান ক স্মিথ ব লিঁও ৮৪
মুশফিকুর রহিম এলবিডব্লু ব আগার ১৮
নাসির হোসেন এলবিডব্লু ব আগার ২৩
মেহেদি হাসান মিরাজ ক হ্যান্ডসকম্ব ব লিঁও ১৮
তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লু ব লিঁও ৪
শফিউল ইসলাম ক হ্যাজেলউড ব আগার ১৩
মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (বা-১৫, লে বা-৩, নো-২, ও-১) ২১
মোট (অলআউট, ৭৮.৫ ওভার) ২৬০

উইকেট পতন
১/১০ (সৌম্য), ২/১০ (ইমরুল), ৩/১০ (সাব্বির), ৪/১৬৫ (তামিম), ৫/১৮৮ (সাকিব), ৬/১৯৮ (মুশফিকুর), ৭/২৪০ (মিরাজ), ৮/২৪৬ (নাসির), ৯/২৪৬ (তাইজুল), ১০/২৬০ (শফিউল)।

অষ্ট্রেলিয়া বোলিং
জশ হ্যাজেলউড : ১৫-৫-৩৯-০,
প্যাট কামিন্স : ১৬-১-৬৩-৩ (ও-১, নো-২),
নাথান লিঁও : ৩০-৬-৭৯-৩,
অ্যাস্টন আগার : ১২.৫-২-৪৬-৩,
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল : ৫-০-১৫-১।

অষ্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস
ডেভিড ওয়ার্নার এলবিডব্লু ব মিরাজ ৮
ম্যাট রেনশ অপরাজিত ৬
খাজা রান আউট (মুশফিকুর/সৌম্য) ১
লিঁও এলবিডব্লু ব সাকিব ০
স্মিথ অপরাজিত ৩
অতিরিক্ত ০
মোট (৩ উইকেট, ৯ ওভার) ১৮

উইকেট পতন
১/১০ (ওয়ার্নার), ২/১৪ (খাজা), ৩/১৪ (লিঁও)।

বাংলাদেশ বোলিং
শফিউল : ২-০-৮-০,
মিরাজ : ৪-২-৭-১,
সাকিব : ৩-১-৩-১।

ছবি : এসোসিয়েটেড প্রেস-এপি

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৭.০৮.২০১৭


Comments are closed.