>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় পালিত হ’ল জাতীয় কবি নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Kabi Nazrulজাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।

রবিবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কবির সমাধিতে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবি পরিবারের সদস্যরা। এ সময় কবির নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন জাতিগতভাবে একটি লড়াই চলছে। তিনি তাঁর কবিতা, নাটক, উপন্যাসের মাধ্যমে সব লড়াইয়ের অবসান চেয়েছেন।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

রবিবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কবির সমাধিতে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবি পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রমুখ।

এ সময় কবির নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন জাতিগতভাবে একটি লড়াই চলছে। তিনি তার কবিতা, নাটক, উপন্যাসের মাধ্যমে সব লড়াইয়ের অবসান চেয়েছেন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সকাল ৮টার দিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনাকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির বীজ বৃদ্ধি পেয়েছে, শেকড় বেড়েছে। সেটাকে দেশের সর্বস্তরের জনগণ মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপড়ে ফেলতে হবে।’

বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং ছাত্রদলের নেতারা নজরুলের সমাধিতে ফুল দিতে এসেছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় কবি আমাদের আদর্শের প্রেরণা। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে প্রেরণা, তা তিনিই আমাদের দিয়েছেন। তাঁর শিল্প-সাহিত্য, গল্প-কবিতা সবকিছুতে মানুষের মুক্তি কামনা করেছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর কথা বলেন।

ঢাবির বিভিন্ন হল, নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাবি ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, কবি নজরুল সাহিত্য মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন। শৈশবেই স্বজন হারানো ‘দুখু মিয়া’ দারিদ্র্য আর সব বাধা ঠেলে একসময় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন।

১৯৪২ সালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বাকশক্তি হারান নজরুল। স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। নজরুল সম্মানিত হন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায়।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত এ মনীষী ১৯৭৬ সালের এ দিনেই ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৭.০৮.২০১৭


Comments are closed.