>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

‘আমরা বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি’ : প্রধান বিচারপতি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

CJ SKS Bangladeshপ্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি। আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি। সেখানে ধৈর্যের কথা বলা আছে। পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ো (অযোগ্য) করেছেন। সেখানে কিছুই (আলোচনা সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করার বিষয়ে রবিবার রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি একথা বলেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বিষয়টির ওপর পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর তারিখ রেখেছেন।

সবশেষ ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করতে আপিল বিভাগ ২০ আগস্ট (আজ) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার বিষয়টি আপিল বিভাগে ওঠে।

এর আগে সকালে বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্য আরো কিছুদিন সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, গত তারিখে কী করা হবে, বলা হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কার সঙ্গে, কে কে থাকবেন?

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনমন্ত্রী।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সঙ্গে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আলাপ-আলোচনার কথা। আপনারা আলাপ-আলোচনা পর্যন্ত করলেন না।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আমার কী করার আছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা মিডিয়াতে অনেক কথা বলবেন, কোর্টে এসে অন্য কথা বলবেন। আপনাকে বলছি না, আপনাদের কথা বলছি।’

অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি বলেন, কবে রাখব (পরবর্তী তারিখ)। সবাই বসবেন।’

একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সব বিষয় নিয়ে ঝড় উঠে গেছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা তো কোনো মন্তব্য করছি না। সব তো আপনারাই করছেন। পরবর্তী (তারিখ) কবে চান?’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বন্ধের এক সপ্তাহ পর।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার মতোই আমরা রাখলাম। ৮ অক্টোবর তারিখ রাখলাম।’

এ পর্যায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ার বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দাঁড়ান মাসদার হোসেন মামলার অন্যতম কৌঁসুলি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার আবেদনটি আছে। আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি।’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

এরপর গত ২৭ জুলাই নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করে তার অনুলিপি প্রধান বিচারপতির কাছে জমা দেন আনিসুল হক। তবে তা গ্রহণ করেননি প্রধান বিচারপতি। কারণ হিসেবে ওই খসড়ায় আপিল বিভাগের পরামর্শের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এরপর প্রধান বিচারপতি এই বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে আইনমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ফলে এ বিষয় নিয়ে আলোচনায় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। রবিবার শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট প্রকাশে নতুন দিন ধার্য করা হয়।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২০.০৮.২০১৭

 

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২০.০৮.২০১৭


১ মন্তব্য