>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

চীন-ভারত যুদ্ধ হলে ভারতের লাভ কতটুকু?

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

China India border Nathula Sikkimআজ শনিবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ “যুদ্ধ হলে বিপদ কিন্তু ভারতেরই বেশি” শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, চীনের সাথে যুদ্ধ বেধে গেলে ভারতের পূর্বঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা আবার জোরে-শোরে চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। এসব রাজ্যে বিদ্রোহ দমনে অতীতে নেপাল, ভূটান ও বাংলাদেশ সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু এখন যদি ভারতকে সহযোগিতা করার জন্য এসব দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় তাহলে তারা সে চাপ অগ্রাহ্য করবে, কারণ চীনও তাদের পক্ষে টানার চেষ্টা করবে। কিন্তু এ দেশগুলি চীন-ভারত যুদ্ধের কোন পক্ষ হতে চাইবে না। বরং ভারতের চাপের কারণে এসব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত বিরোধী মনোভাব আরও চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।

বলা হয়েছে, যুদ্ধ বেধে গেলে চীন দক্ষিণ চীন-সাগর দিয়ে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিরাট ঝুঁকিতে পড়বে। আমেরিকা ও জাপান ভারকে যতই আশ্বাস দিক, যুদ্ধ বেধে গেলে দেশ দু’টি সরাসরি ভারতের পক্ষাবলম্বন করবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ, উত্তর কোরিয়াকে সামলাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন চীনকে।

অপরদিকে দিকে রয়েছে পাকিস্তান। চীন তো নিজেই বলেছে, ভারত যদি তৃতীয় পক্ষ হয়ে ভুটানে সেনা মোতায়েন করতে পারে তবে সে পাকিস্তানের হয়ে কাশ্মীরে অবস্থান করবে। ভারত-চীন সংঘাতের সুযোগ নিতে পাকিস্তানও ছাড়বে না। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠবে। এই অঞ্চল এমনিতেই এখন অস্থির।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এ তো গেল যুদ্ধকালীন অবস্থা। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা হবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে। দক্ষিণ এশিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধে যদি ভারত সত্যই পরাজিত হয় (সে সম্ভাবনাই বেশি), দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের আধিপত্য আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির অভিমুখ চীনের দিকে ঘুরে যেতে পারে।

সম্পাদকীয়তে পরিশেষে বলা হয়, যুদ্ধ শুধু নরেন্দ্র মোদীর মর্যাদাহানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা দুনিয়ায় ভারতের মর্যাদাও ভূ-লুণ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ভারত যুদ্ধে পাকিস্তান চীনের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধ কয়েক দিনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দূর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি হবে অপূরণীয়। চীন ও পাকিস্তান কাশ্মীরের বিদ্রোহীদের সরসরি সহায়তা দিয়ে কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্চিন্ন করে ফেলতে পারে। এদিকে সিকিমও ভারত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। সিকিমের রাজনীতিকরা চীনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বসতে পারে। এমন কি সঙ্গে দার্জিলিংকেও টান দিতে পারে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৯.০৮.২০১৭


Comments are closed.