>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনের অগ্রাধিকার

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

China map smচীন কমিউনিষ্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সরকার দ্বারা পরিচালিত একটি দেশ হলেও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের চেয়ে নিজের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থকে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালানো সবই চীন জানতো, কিন্তু চোখ বুঁজে সমর্থন দিয়েছিল পাকিস্তানকে। নতুন নতুন অস্ত্র দিয়েছিল, যে অস্ত্র পাকিস্তান বাংলাদেশের গণহত্যায় ব্যবহার করেছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ৪ বার ভেটো দিয়েছিল। আবার ১৯৭৩ সালে আমেরিকার মদদে চিলির জেনারেল পিনোচেট যখন নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতা সালভেদর আলেন্দেকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তখন সারা বিশ্বের তিন চতুর্থাংশেরও বেশী দেশ আলেন্দে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ করেছিল এবং পিনোচেটের সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু, চীন পিনোচেট সরকারকে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সকল ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছিল। পিনোচেটের আমলে চিলিতে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী নির্বিশেষে ২০ হাজারেরও বেশী প্রগতিশীল নাগরিক গুম হয়ে গিয়েছিল।

চীন আমেরিকার সরকারী বণ্ড (সভারেইন বণ্ড) ক্রয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি (৩ ট্রিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করেছে। এখন এ বিপুল অর্থ মার যাওয়ার চিন্তায় চীন দারুন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কারণ, আমেরিকা কারো পাওনা অর্থ সহজে পরিশোধ করে না বা ফেরত দেয় না। বরং আমেরিকার কাছে কোন দেশের বিশাল অঙ্কের অর্থ পাওনা হয়ে গেলে বিভিন্ন তালবাহানা করে তারা সে অর্থ মেরে দেয় বা অবরোধের নাম করে বাজেয়াপ্ত করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের যে সমস্ত দেশ আমেরিকার কাছে টনকে টন স্বর্ণ মজুদ রেখেছিল, যুদ্ধের পর আমেরিকা তার এক ছটাক সোনাও ফেরত দেয়নি। এভাবে পরবর্তীতে আমেরিকার ব্যাংকে ইরান, ইরাক, লিবিয়া প্রভৃতি দেশের তেল বিক্রি করা যে অর্থ জমা ছিল তাও মেরে দিয়েছে বা আটকে রেখে নিজে ব্যবহার করছে। চীনের ভয়, সম্পর্কের চরম অবনতি হলে আমেরিকা তার সাথেও এরকমটাই করবে। তাই চীন আমেরিকার সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটাতে চায় না। আবার মার্কিন ডলারের মূল্য পড়ে যাক তাও চায়না। আমেরিকার সাথে চীনের বিরোধিতা বা দ্বন্দ্ব সব সময়ই অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ভাবনা দ্বারা সীমিত।

উত্তর কোরিয়া চীনের বিবেচনায় তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে না। কিন্তু আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া চীনের প্রথম সারির বাণিজ্যিক পার্টনার এবং বছরে শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয় তাদের সাথে।

এসব কারণে, উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে চীনের ভূমিকা ইরাক ও লিবিয়ার ক্ষেত্রে যেমন ধরি মাছ না ছুঁই পানি ছিঁল, সেকরম হতে পারে। আমেরিকাকে না চটাতে সিরিয়ায়ও চীনের ভূমিকা ধরি মাছ না ছুঁই পানি থেকেছে। প্রথম দিকে একটি যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে পরক্ষণেই সে জাহাজ ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু এখন সিরিয়ার কাছ থেকে আর্থিক স্বর্থটা পরোপুরি আদায়ের সুযোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা ও অবকাঠামো নির্মাণ খাতে শত শত বিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট ঠিকই বাগিয়ে নিয়ে্ছে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জন্য চীনকে পাশে পাওয়া, চীনের সমর্থন খুবই জরুরী। আর সে কারণে রাশিয়া চীনের অনুগামী হয়ে ইরাক ও লিবিয়ার ক্ষেত্রে যে অবস্থান নিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই করে বসতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা উত্তর কোরিয়া নিয়ে আমেরিকার মনে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা, চীন ও রাশিয়ার মনেও প্রচ্ছন্নভাবে সেরকম দুঃশ্চিন্তা বাসা বাঁধা অসম্ভব নয়। তাই উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়ার নেতিবাচক ভূমিকা অদৌ অপ্রত্যাশিত হবে না।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৯.০৮.২০১৭


মতামত দিন