>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল নিয়ে মন্ত্রিসভার মন্তব্য সত্যিই উদ্বেগজনক

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Fakhrilবাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে মন্ত্রিসভার মন্তব্যকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দেয়া ‘ঐতিহাসিক’ বলেও মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বিএনপির সদস্য সংগ্রহও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই রায় সম্পর্কে সোমবার মন্ত্রিসভায় কয়েকটা কমেন্ট করা হয়েছে, যেটা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমাদের সবার আশা-ভরসার শেষস্থল বিচার বিভাগ, আপিল বিভাগ। সেখান থেকে যখন একটা রায় আসে, কিছু অবজারভেশন আসে, তখন সমগ্র জাতি যে শুধু মেনে নেয় তা নয়, তারা সেটাকে মানতে চেষ্টা করে। সেখানে তারা (ক্ষমতাসীনরা) বলছেন যে, জনমত তৈরি করবেন। কার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করবেন? এই ১৬ কোটি মানুষের মনের যে চিন্তা-ভাবনা, যে রায়ের মধ্য দিয়ে এসেছে, যে অবজারভেশনের মধ্য দিয়ে এসেছে, তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করবেন?’

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। জনগণ সঙ্গে নেই বলেই আপনারা এই সমস্ত কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, এই সরকারের নৈতিক কোনও অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার। কারণ যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা সরকার দাবি করেন, সেই নির্বাচন তো হয়নি। ১৫৩টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোনও নির্বাচনই হয়নি। এই দেশের মানুষ জানে, সমগ্র বিশ্বের মানুষ জানে- এটা একটা কারচুপি ও ভুল নির্বাচন হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তাকে অত্যন্ত সজ্জন মানুষ হিসেবে জানি। ইদানিং খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন। তার কথায় আমরা সবাই বেশ আমোদ পাই। উনি সোমবার বলেছেন বিএনপি নাকি আদালত আর বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যেতে চায়। আমি বলতে চাই, কার কথা কে বলে? এই খায়রুল হক (সাবেক প্রধান বিচারপতি) রায়ের ওপরে আপনারা ক্ষমতায় টিকে আছেন। এদেশের সব মানুষ জানে কোন বিদেশিদের কর্মতৎপরতায় আপনারা ক্ষমতায় টিকে আছেন। সুতরাং বিএনপিকে এ কথা বলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে জনগণ। যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে এসেছে, অন্য কোনও পথে আসেনি। অন্য কারও সঙ্গে আঁতাত করে, অন্য কারও সঙ্গে সমঝোতা করে বা রাতের অন্ধকারে বিএনপি ক্ষমতায় আসেনি।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘একটি কথা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে-এই সরকার এমনি এমনি ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না। এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে জনগণের যে দাবি সেই দাবি মেনে নেয়ার জন্য। সেই দাবি কি? এখন জনগণ চায় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার হতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। লড়াই করে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সহায়ক সরকার সংবিধানে নেই– ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এরকম বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যখন কেয়ারটেকারের দাবি তুলেছিলেন তখন কি তা সংবিধানে ছিল। মূল বিষয়টা কি? জনগণ যা চায়, যা প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সবাই একমত হয়ে সেই পরিবর্তনগুলো আনতে হবে। সংবিধান কোনও বাইবেল নয় যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার বদরুদ্দোজা বাদলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিষ্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিষ্টার আমীনুল হক, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৯.০৮.২০১৭


Comments are closed.