>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ঢাকা বনশ্রীতে গৃহকর্মীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ আটক ২

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Banasree doemestic aide suspicious deathরাজধানী ঢাকার বনশ্রীতে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে এলাকাবাসীর। এদিকে গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গৃহকর্তা ও ভবনের কেয়ারটেকারকে আটক করেছে পুলিশ। উত্তেজিত জনতা শুক্রবার বিকালে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ভাঙচুর চালায়। তাদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ ১০-১২টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বাধা দেয়।

এদিকে পুলিশ গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও বাড়ির কেয়ারটেকার কামালকে আটক করেছে বলে জানিছেন খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর কবির খান।

খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার নাদিয়া জুই বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর দু’টার সময় বনশ্রী এলাকায় গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে টহল টিম পাঠাই। কিন্তু তার আগেই লাশটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সেখানে কোনও লাশ পায়নি। পরে টহল টিমের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের আরেকটি টিম পাঠানো হয় হাসপাতালে। গৃহকর্মীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে গৃহকর্মীর স্বজন ও স্থানীয়রা গৃহকর্তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসীর ছোড়া ঢিলে অভিযুক্ত গৃহকর্তার বাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা।’

রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান জানিয়েছেন, বনশ্রী এলাকায় সংঘর্ষ হচ্ছে। তবে এলাকাটি খিলগাঁও থানার অধীনে। তারপরেও রামপুরা থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন।

খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, ‘এখনও ঝামেলা চলছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ‘ডি’ ব্লকের একটি বাসায় লাইলী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দুপুর ২টার দিকে ‘ডি’ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ির নীচ তলার ওই বাসা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। তারা বাসাটিতে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর চালায়।

গৃহকর্মী লাইলীর মা-বাবার বরাত দিয়ে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘প্রতিদিনের মত শুক্রবার সকালে লাইলী কাজে যায়। পরে গৃহকর্তা তাদের জানায় লাইলী অসুস্থ। কিন্তু আমরা গিয়ে দেখি লাইলী মৃত।’

গৃহকর্তা মইন উদ্দিনের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, সকালের দিকে বাসায় কাজে আসে লাইলী। বাসায় এসে সবার অগোচরে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না জড়িয়ে ফাঁস দেয়। বাসার লোকজন লাইলীকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৃহকর্মীর মৃত্যুর ব্যাপারে নিহত গৃহকর্মী লাইলীর (২৫) স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমি নিজেও ওই বাসায় তৃতীয় তলায় কাজ করি। সকাল দশটার দিকে বাড়ির কেয়ারটেকার কামাল আমাকে লাইলীর মৃত্যুর খবর দেন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তার পায়ের নিচে একটি মোড়া রাখা ছিল। দরজা খোলা ছিল তখন। সব দেখে আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। মনে হয়েছে, লাইলীকে মারার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। বাড়ির আশেপাশের অন্তত চারটি রাস্তার মাথায় অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকদফা টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।’

স্থানীয়রা জানান, গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই এলাকায় গৃহকর্মীদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ। এর আগেও এই বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। গৃহকর্তা ও গৃহকত্রীর বিরুদ্ধে বেমন পরিশোধ না করে গুহকর্মীদের বের করে দেয়া এবং বেতন চাইতে গেলে মারপিট করার অভিযোগও করেছে এলাকাবাসী।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৫.০৮.২০১৭


Comments are closed.