>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

সেই ভারত এই ভারত

প্রতাপ কামাল

# ভারতে গো-রক্ষকদের গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তির স্বজন

# ভারতে গো-রক্ষকদের গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তির স্বজন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে চীন ভেটো দিয়েছিল ৪টি, আর আমেরিকা ভেটো দিয়েছিল ১৭টি। এমন কি বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে আমেরিকা জড়িত ছিল একথা মার্কিন নেতৃস্থানীয় প্রাণী বিজ্ঞানী ও ধর্মযাজক ফাদার টিম নিজের লেখা বইতে বলেছেন। সেই আমেরিকার সাথে মোদি সরকারের অতিমাত্রায় হরিহর-আত্মা বন্ধুত্বে আমরা অবশ্যই শঙ্কিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত ছিল আমাদের পরম বন্ধু। ভারতের নিজেরও প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের একটি প্রতিরক্ষা সেক্টরকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া। সব মিলিয়ে সে সময় ভারত এক কোটি শরণার্থীকে স্থান দেয়াসহ আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে। সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমরা কখোনই কৃপন নই। কিন্তু ১৯৭১ সালের ভারত এবং ২০১৭ সালের ভারতের মধ্যে পার্থক্য রেখা টানার মত বিচার বুদ্ধি আমাদের আছে। আমরা সাধারণভাবেই সেই ভারত আর এই ভারতকে বুঝতে পারি। ১৯৭১ সালের কথা স্মরণ করে ভারত সরকারের ন্যায়-অন্যায়, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষ সকল কাজের অন্ধ সমর্থক হওয়া কোন বিবেকবান মানুষের কাজ নয়।

কোন দেশের সরকারের নীতির বিরোধিতা সে দেশের বা দেশের জনগণের বিরোধিতা নয়। মোদি সরকারের সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, গো-রক্ষা, অতিরিক্ত আমেরিকা ও ইসরাইল প্রীতি, কোটি কোটি ভারতীয়রাও পছন্দ করে না। ভারত সরকারের যে সমস্ত নীতি ও কার্যক্রমের ফলে প্রতিবেশীদের ক্ষতি হতে পারে তার বিরোধিতা করা ন্যায়সঙ্গত মনে করি। তার মানে ভারত বিরোধিতা নয়। একথা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবে যে, মোদির নেতৃত্বে বর্তমান ভারতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যেটুকু সামাজিক সহমর্মিতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল তার বুনন ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। যত্র-তত্র অহেতুক নরহত্যা এবং নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু তা কার্যকরভাবে বন্ধ করা বা তার বিরুদ্ধে তড়িৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে ভারতেরই নাগরিকদের অভিযোগ। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, জঘন্যতম নরহত্যার পরও কোন প্রকার টু-শব্দ না করে প্রধানমন্ত্রী মোদি পাঁচ-ছয়দিন চুপ করে বসে থাকেন।

ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং পণ্ডিত জওহারলাল নেহেরেু ছিলেন তার অন্যতম নেতা। বাকি চারজন ছিলেন যুগোশ্লাভিয়ার জোসেফ টিটো, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ, মিশরের জামাল আব্দুন নাসের এবং ঘানার নক্রুমা। সাত দশক ধরে ভারত সব সময় ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্বেও ইসরাইলের সকল অবৈধ কাজের বিরোধিতা করে এসেছে। এখন সেই ভারত ইসরাইলের অন্যতম বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা পার্টনার। মোদি সরকার এখন বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার প্রধান মিত্র। সেই সাথে ভারত সরকারের আচরণে ক্রমেই যুদ্ধবাজ মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। ভারতের এই আমেরিকা ও ইসরাইল প্রীতি ও ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবাজ মনোভাবের বিরোধিতা যে কোন বিবেকবান মানুষ করবে। এটা ভারত বিরোধিতা নয়।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৪.০৮.২০১৭


Comments are closed.