>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ভোলার মনপুরায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

স্বাস্থ্যডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Bhola Monpura river ambulanceভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় এই প্রথমবারের মত যুক্ত করা হয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নৌ যানটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। ফাইবার গ্লাসের দ্বারা নির্মিত ও চাইনিজ ইঞ্জিনের অ্যাম্বুলেন্সটি প্রতি ঘন্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সটি মনপুরায় এসে পৌঁছেছে। আর এতে করে দারুণ খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।

মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশিদ আজ বাসস’কে জানান, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা আছে। রোগীদের প্রয়োজন পড়লেই এটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এতে করে রোগীদের উপজেলা হাসপাতাল থেকে ভোলা সদর, বরিশাল-ঢাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে নেওয়া যাবে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে গর্ভবতী মায়েরা। চিকিৎসার অভাবে আর কেউ প্রাণ হারাবেন না এই অঞ্চলে। স্বল্প-পরিসরের এই নৌ-যানটি ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম বলে জানান তিনি।

এদিকে বিগত দিনে লক্ষাধিক জনবসতিপূর্ণ দ¦ীপ উপজেলা মনপুরায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষনিক উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়ার কোন উন্নত ব্যবস্থা ছিলনা। ঢাকাগামী একটি লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাই ছিলো একমাত্র ভরসা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হতো বর্ষা মৌসুমে। কারণ এই সময়টাতে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। তাই বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হরাতে হতো এখানকার বাসিন্দাদের। অবশেষে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ কেটে যাচ্ছে মানুষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি পরিবহনে ঘন্টায় মাত্র ৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হবে। অ্যাম্বুলেন্সটি মনপুরা উপজেলা সদর থেকে মূল ভুখন্ড তজুমুদ্দিন ও চরফ্যসন উপজেলায় আসতে সময় নেমে এক থেকে সোয়া ঘন্টা। এতে করে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হারও কমবে এই উপজেলায়।

স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী বলেন, মনপুরা একটি বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকা। বর্ষা মৌসম এলেই এখানকার বান্দিারা আতংকের মধ্যে থাকেন। কারণ, নদী-সাগরের প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় তাদের। বিশেষ করে এই সময় কেউ অসুস্থ হলে তাকে মনপুরার বাইরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া ব্যবস্থা ছিলো না। তাই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তি আর থাছেনা। আর এতে করে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৯.০৭.২০১৭


Comments are closed.