>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বাব আল-মান্দাবে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ইয়েমেন দখলের ষড়যন্ত্র

সম্প্রাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Yemen Bab Al Mandebসৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব সামরিক জোট আন্তর্জাতিক বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বীপে একাধিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকা দখল করা সৌদি আরবের অন্যতম লক্ষ্য। এরই অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে অবস্থিত ইয়েমেনের ‘হানিশ’ ও ‘মিওয়ান’ দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালী হচ্ছে, ইয়েমেনের মায়িয প্রদেশের উপকূলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পয়েন্ট এবং এটি এডেন উপসাগর ও লোগিত সাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। আমিরাত এমনভাবে ইয়েমেনের ওই দুই দ্বীপের উপর সামরিক অবস্থান গড়ে তুলছে, যাতে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলের চ্যানেলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়। ইয়েমেন ভূখণ্ডে আমিরাতের অবৈধ তৎপরতা থেকে বোঝা যায়, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, আমেরিকা ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে আমিরাত প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সৌদি আরবের রাজনৈতিক কর্মী মোজতাহেদ জানিয়েছেন, আমিরাত ইয়েমেনকে উত্তর ও দক্ষিণ এ দুইভাগে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেছেন, আমিরাত বর্তমানে শাবভে, হাদ্রামাউত ও আল-মোহরে প্রদেশ ইয়েমেন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তারা হাদ্রামাউত ও শাবভের মধ্যবর্তী উপকূলীয় রাস্তা আটকে দিয়ে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে উত্তর থেকে আলাদা করতে চাইছে।

সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো আমেরিকার সমর্থন নিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বর্বর আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির মতো অনুগত ব্যক্তিদের আবার ক্ষমতায় বসিয়ে ইয়েমেনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই সৌদি আরব ওই আগ্রাসন শুরু করে। ইয়েমেনে আগ্রাসনের পেছনে সৌদি আরবের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করা এবং ওই দেশটিকে খণ্ড বিখণ্ড করা। এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল, সেখানকার জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যদের মধ্যে আমিরাতই সবচেয়ে বেশী তৎপর বলে মনে হচ্ছে।

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সৌদিকে সহযোগিতা করার পেছনে আমিরাতেরও বিরাট স্বার্থ রয়েছে। কারণ এডেন উপসাগরে ইয়েমেনের দু’টি দ্বীপের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে আমিরাত। ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি ওই দ্বীপ দু’টি ৯৯ বছরের জন্য আমিরাতের কাছে ইজারা দিয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরব আমিরাতের সম্প্রসারণবাদী তৎপরতার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর ফলে ইয়েমেন আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

যাই হোক, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আগের চেয়ে আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ইয়েমেনের ঞুথি আন্দোলনের নেতারা শত্রুদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করা থেকে বোঝা যায় শত্রুর ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে তারা সচেতন।

-সংগ্রহ/পারসটুডে

বাংলাদেশনিউজ
২১.০৭.২০১৭


Comments are closed.