>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

দায়েশের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন ষড়যন্ত্র

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US troops in Iraqউগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কবল থেকে ইরাকের মসুল শহর উদ্ধারের পর এখন ওই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাস মুক্ত করার অভিযান চলছে। আর সেই সঙ্গে দায়েশ তার শেষ মুহূর্তের নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। ইসলামিক ষ্টেট বা দায়েশ ইরাক থেকে বিতাড়িত হওয়ার পথে থাকলেও এ পর্যায়ে আমেরিকার নতুন ষড়যন্ত্রের প্রতি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত যুদ্ধের কথা বলে নানা উপায়ে আমেরিকা ইরাকে তাদের সেনা মোতায়েন রাখার পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে ইরাকিদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে। সম্প্রতি ইরাকের ইসলামী উচ্চ পরিষদের সচিব আম্মার হাকিম বলেছেন, দায়েশের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর সেদেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি কিংবা একটি সেনার উপস্থিতিও মেনে নেয়া হবে না।

গত ২৯শে জুন ইরাকের সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী দায়েশের দখল থেকে আন নুরি মসজিদ উদ্ধারের মাধ্যমে মসুল উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘটায়। দায়েশ নেতা আবু বকর আল বাগদাদি এই মসজিদ থেকেই তথাকথিত ইসলামি খেলাফতের ঘোষণা দিয়েছিল। ইরাকিরা এখন মসুলের পুরানো এলাকা থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া দায়েশকে পুরোপুরি নির্মূল করতে কাজ করছে।

ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয়ের পেছনে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কেবল নিজেদের শক্তি সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে তারা এতো বড় বিজয় অর্জন করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সব সময় দাবী কতেন দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে, দায়েশের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে। দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার ষড়যন্ত্র এবং তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা আসলে দায়েশের পতন চায় না এবং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রেখে নিজের স্বার্থে হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু ইরাকিরা অনেক কম সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করল।

বাস্তবতা হ’ল, দায়েশের পতনের পর ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতির পক্ষে আমেরিকার আর কোন ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। দায়েশ বিরোধী যুদ্ধের অনিবার্য অবসান ঘটতে চলেছে। তাই েইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিরও আর কোনো প্রয়োজন নেই।

ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয় মানে বস্তুতঃ আমেরিকারই পরাজয়। আর সে জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাকে হস্তক্ষেপ ও সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য নতুন নতুন কৌশল আঁটছে। কিন্তু ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ফলে সে দেশে হত্যা, ধ্বংস ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মতো নেতিবাচক পরিণতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনেনি। ইরাকেব একদিকে মার্কিন হামলা অন্যদিকে দায়েশের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

ইরাকের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, সে দেশের তেল ক্ষেত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আমেরিকা এখন ও তার মূল পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মার্কিন মূল পরিকল্পনার অংশ হ’ল ইরাক ভাগ করে, উত্তরাঞ্চলে একটি পৃথক কুর্দি ও পশ্চিমাঞ্চলে আনবার প্রদেশ নিয়ে সৌদি সীমান্ত বরাবর একটি পৃথক সুন্নী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইরাকের বিশাল তেল সম্পদের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তেল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই মূলত আমেরিকা ইরাকে অনির্দিষ্টকাল সেনা মোতায়েন রাখতে চায়।

বাংলাদেশনিউজ
০৫.০৭.২০১৭


Comments are closed.