>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

মহাকাশ যুদ্ধের বাহিনী বানাচ্ছে আমেরিকা

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US Suttle Launching‘মহাকাশ বাহিনী’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। এ বাহিনী গঠনের জন্য ভোট দিয়েছেন মার্কিন হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির সদস্যরা। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ষষ্ট এ শাখা পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলের বাইরে অর্থাৎ মহাশূন্যে সামরিক তৎপরতায় নিয়োজিত থাকবে। প্রয়োজনে যুদ্ধও করবে এ বাহিনী। ১৯৪৭ সালের পর এই প্রথম মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কোন নতুন শাখা খোলা হচ্ছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের অর্থাৎ আগামী দু’বছরের কম সময়ের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর বৈপ্লবিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এ বাহিনী তৈরি হচ্ছে।

অবশ্য মার্কিন মহাকাশ বাহিনী গঠনের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি অনুমোদন পায়নি। আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বাহিনী অনুমোদন লাভ করার পর মার্কিন মহাকাশ কমান্ডের ছাতার তলে চলে আসবে মার্কিন বিমান বাহিনীর আওতাধীন সব মহাকাশ মিশন। মার্কিন মহাকাশ কমান্ডের একজন নতুন প্রধানও থাকবেন। আর এর মাধ্যমে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফে যোগ হবে ১৮তম সদস্য।

মার্কিন বিমান বাহিনী বর্তমানে মহাকাশ বিমান এক্স-৩৭বি দিয়ে একটি গোপন মিশন পরিচালনা করছে। মহাকাশে টানা ৭১৮ দিন থাকার রেকর্ড সৃষ্টি করে সম্প্রতি পৃথিবীতে ফিরে এসেছে এক্স-৩৭বি। মহাকাশে থাকার সময় এটি কি দায়িত্ব পালন করেছে সে সম্পর্কে প্রকাশ্য কিছুই জানান হয়নি। আগষ্টে পুনরায় এটি মহাকাশ মিশনে যাবে বলে জানা গেছে।

অবশ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানটির প্রাথমিক উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমতঃ মহাকাশে আমেরিকার ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর জন্য বারবার ব্যবহারযোগ্য মাহাকাশযানের প্রযুক্তি উন্নয়ণ এবং এ ধরণের বিমান পরিচালনা ও পৃথিবীতে ফিরে আসার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো।

US X-37Bতবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্স-৩৭বি-কে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং গোয়েন্দা উপগ্রহ স্থাপনের কাজে লাগানো সম্ভব। এ সব কৃত্রিম উপগ্রহ অস্ত্র সজ্জিতও হতে পারে। অবশ্য পেন্টাগন দাবি করছে, অস্ত্রসহ কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনায় এক্স-৩৭বি মহাকাশ বিমান জড়িত নয়।

এদিকে মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, এ মহাকাশ বিমানটি আমেরিকার সামরিক কর্মসূচীরই অংশ এবং মহাকাশ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ। যুদ্ধকালীন সময়ে এ বিমানটি হয়ে উঠতে পারে মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ বিমান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। বিমানটি লেসার অস্ত্র সজ্জিত করে প্রয়োজনের সময় শত্রুর উপগ্রহগুলো অকেজো করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শত্রুর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা অকেজো করে দেয়ার কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে। বিমানটির উন্নত সংস্করণ তৈরী করে এটিই হয়ে উঠতে পারে মহাকাশ যুদ্ধের মারণাস্ত্র।

আমেরিকার মহাকাশ বাহিনী’গঠনের সিদ্ধান্ত মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সে ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০২.০৭.২০১৭


Comments are closed.