>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ণ ঝুঁকিতে ফেলছে আমেরিকাকে

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Russian Zircon hypersonic missile 1বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যালিষ্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ণ ও প্রসার আমেরিকার নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বৃদ্ধি করছে। পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। খবর ব্লুমবার্গের।

মার্কিন জাতীয় আকাশ ও মহাকাশ গোয়েন্দা কেন্ত্র এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্লেষণ কমিটি যৌথভাবে এ প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নাটকীয় উন্নয়ণ সাধিত হয়েছে। এ উন্নয়নের মধ্যে নির্ভুলতা, উৎক্ষেপণের পর নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর কেবল সাইলো বা স্থায়ী ঘাঁটিতে নয়, বরং সাবমেরিন, ভাসমান জাহাজ, ট্রাক ও ট্রেনের চলমান উৎক্ষেপক এবং বিমানে স্থাপন বা মোতায়েন করার প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া, ইরান, চীন ও রাশিয়ার ব্যালিষ্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। আরও বিশেষ গুরুত্বে সাথে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকল (HGVs) বা শব্দের গতির চেয়ে ৮-১০ গুণ বেশী গতির ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। এ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট হ’ল এটি সাধারণ ব্যালিষ্টিক ক্ষেপনাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম উচ্চতা দিয়ে চলে। ফলে শব্দের গতির ৫ গুণেরও বেশী গতিতে চলার সময় এটিকে শণাক্ত করা বা বাধা (intercept) দেওয়া সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে দুঃসাধ্য।

বলা হয়ে্ছে, বিশ্বে চীনের রয়েছে সবচেয়ে সক্রিয় এবং বহুমূখী ব্যালিষ্টিক সক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ণ কর্মসূচী। দেশটি অধিকতর আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং পরীক্ষা করছে। সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট গড়ে তুলছে। ক্ষেপণাস্ত্রের মান উন্নয়ন করছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্রবস্থা অকার্যকর বা ব্যার্থ করে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়নে অনেক দূর এগিয়েছে।

অপরদিকে রাশিয়া ২০১৪ সালে কৌশলগত ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে আমেরিকাকে অতিক্রম করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একমাত্র রাশিয়াই করেছে এবং সে অবস্থান দেশটি ধরে রাখবে।

এদিকে ইরান ও উত্তর কোরিয়া আমেরিকার চাপের মূখে মহাকাশ কর্মসূচীর আড়ালে পরসাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। কারণ, উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য এবং মহাকাশ গবেষণায় যে রকেট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরীতেও সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ইরান ও উত্তর কোরিয়া মহাকাশে রকেট পাঠিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে।

পেন্টাগন প্রতিবেদনটি সরকারীভাবে প্রকাশ করার আগেই সেটি ব্লমবার্গের হাতে এসেছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৭.০৬.২০১৭


Comments are closed.