>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

দুঃখের কথা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Police action Garments unrestএবারও কোন ব্যাতিক্রম হ’ল না। বেতন-বোনাসের জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হ’ল। এবারও কতিপয় মালিক শ্রমিকদের টাকা-পয়সা পরিশোধ না করে তাদের পুরোন জাত অভ্যাসের পরিচয় দিলেন। এসব দেখার ও কার্যকরভাবে এসব ঘটনা এড়ানোর জন্য না সরকার, না গার্মেণ্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমএ… কারো কোন গা ব্যাথা নেই।

এসব দরিদ্র শ্রমিক ঈদে একটু ঘরমুখো হবে, বাচ্চা-কাচ্চার জন্য একটা নতুন পোশাক কিনবে- সব গুড়ে বালি। বরং তারা রাস্তায় নামলেই সরকার, গার্মেন্টস মালিক, পুলিশ সবার কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, কখনও বিদেশী এজেন্ট আবার কখনও দেশদ্রোহী!! পুলিশের যত কাঁদানে গ্যাস, লঠি চার্য, মাইর সবই তাদের পাওনা। তাতেও কাজ না হলে ধরপাকড় করে জেলে পুরা, কারখানায় লে-অফ, লক-আউট! সত্যিই সেলুকাস….!!

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পোষা শিল্প পুলিশ, যাদের দায়িত্ব শিল্প এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা, তারাও চাকরী পাওয়ার পরে সরকারেরও না, জনগনেরও না, শ্রমিকদেরও না…. কেবল গার্মেন্টস মালিকদের। তাদের দৃষ্টিতে সমস্ত গণ্ডগোলের মূলে হ’ল এসব “বেয়াদব উশৃঙ্খল শ্রমিক”!! হায় স্বদেশ!!

আরও দুঃখের কথা হ’ল, ফেসবুকসহ সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ব্লগে অনেকে আছেন যারা গামেন্টস মালিক বা মালিক পরিবারের সদস্য অথবা মালিকানা কিংবা চাকুরী সুবাদে গার্মেন্টস বা বায়িং ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা প্রায় সবাই কোনক্রমেই জীবন সংগামে পর্যুদস্ত দরিদ্র গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল নন, কেবল নিজেদের স্বার্থটাই বোঝেন।

এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরী। জরুরী দেশের অর্থনীতির স্বার্থে, স্বচ্ছ গার্মেন্টস ব্যবসার স্বার্থে এবং যে শ্রমিকদের ঘামের স্রোতে নৌকা পাড়ি দিয়ে মালিকরা ফুলে-ফেঁপে ওঠেন, সেই সব শ্রমিকদের জীবনে একটু স্বস্তি প্রদানের স্বার্থে।

বাংলাদেশনিউজ
২৩.০৬.২০১৭


Comments are closed.