>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান তৈরী করছে এয়ারবাস

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Airbus fighter jetইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান তৈরী করছে ফ্রান্স ভিত্তিক বিমান কোম্পানী এয়ারবাস। একটি যুৎসই যুদ্ধবিমানের জন্য জার্মানী ও স্পেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এয়ারবাসের এ বহুমুখী যুদ্ধ বিমানটির জন্য। খবর জার্মান গণমাধ্যমের।

বেশীরভাগ ইউরোপীয় দেশ তথা ন্যাটো সদস্যদেশ এখনও আমেরিকায় তৈরী এফ-১৬ এবং ইউরোফাইটার টাইফুন এবং টর্নেডো বিমানের উপর নির্ভরশীল। অবশ্য ফ্রান্স তার নিজস্ব চতুর্থ প্রজন্মের রাফালে যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করছে। কিন্তু বিশ্ব এখন যুদ্ধ বিমাননপ্রযুক্তিতে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে।

এদিকে ন্যাটোর সাথে আমেরিকার সম্পর্ক দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ায়, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের আমলে, ইউরোপের দেশগুলো আর আমেরিকার উপর ভরসা রাখতে পারছে না। তাই তারা নিজস্ব যুদ্ধ বিমান তৈরীর উপর জোর দিচ্ছে। সে কারণে জার্মাানী ও স্পেন এয়ারবাসকে সার্বিকভাবে উৎসাহিত করছে।

এদিকে ইউরোপের অনেক দেশ আমেরিকার এফ-৩৫ প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করলেও, এখন এ বিমান নিতে তেমন একটা আগ্রহী নয়, যদিও এ বিষয়ে তারা আমেরিকার চাপের মুখে রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো আমেরিকার এফ-৩৫ ষ্টীলথ যুদ্ধ বিমানকে নির্ভরযোগ্য মনে করছে না। বিমানটি তৈরীর পর থেকে এর নানা ধরণের ত্রুটি দূর করা সম্ভব হচ্ছে না।একের পর এক ত্রুটি ধরা পড়তেই আছে। আবার এর এমন কিছু মৌলিক ত্রুটি আছে যা সংশোধনযোগ্যও নয়। সম্প্রতি বিমানটির ককপিটে অক্সিজেন স্বলপতা দেখা দিলে পাইলটরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। একারনে আমেরিকার আরিজোনার বিমানঘাঁটির সবগুলি এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমানের উড্ডয়ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

অপরদিকে বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ বিমান প্রযুক্তিতে সবার উপরে রাশিয়া। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেশটির সাথে ইউরোপের যে সম্পর্ক তাতে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিমান তৈরীর পযুক্তি সহায়তার কথা ইউরোপীয় নেতারা কল্পনাও করছেন না।

তবে ইউরোপীয় নেতারা এবং এয়ারবাস যুদ্ধ বিমান প্রযুক্তিতে চীনকেও প্রথম সারির দেশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। চীনের পঞ্চম প্রজন্মের ষ্টীলথ জে-২০ যুদ্ধ বিমানটি সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন এবং পারফরম্যান্সও নিখুঁত। তাছাড়া সম্প্রতি এ ষ্টীলথ বিমানটির সর্বশেষ ভার্সানে নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করায় সেটির পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়েছে। একারণে, পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান তৈরীর জন্য এয়ারবাস সম্প্রতি চীনের সাথে একটি প্রযক্তি সহায়তা ও কারিগরী সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

নতুন প্রজন্মের এ বিমানটি তৈরীর জন্য এয়ারবাস ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও আনুসঙ্গিক অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে তৈরী করেছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২০-২১ সাল নাগাদ বিমানটির প্রটোটাইপ তৈরী হয়ে যেতে পারে ২০২২ সালের মধ্যে এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ণ সম্ভব হতে পারে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৬.০৬.২০১৭


Comments are closed.