>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তান একাধিক স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৫৪ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

পাহাড়ে বাড়ছে লাশের সারি মৃতের সংখ্যা ১৪৯ জনে পৌঁছেছে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Chittagong Hilltract mudslide 3দেশের তিন পার্বত্য জেলাসহ ৫ টি জেলায় পাহাড় ধসে সবশেষ পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জন। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০৬ জন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশে ৩৪ জন, বান্দরবানে ৬, কক্সবাজারের টেকনাফে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অনেকে এখনো নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন কাজ করছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রবল বর্ষণে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে।

পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিতে ফায়ার সার্ভিসের ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম থেকে সেখানে রওনা হয়েছেন। সড়ক পথ বন্ধ থাকায় বুধবার দুপুরে কাপ্তাই নৌপথ দিয়ে তারা রাঙামাটিতে রওনা হন।

গাছপালা ভেঙে পড়ায় ও মহাসড়কে পানি উঠে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে রাঙ্গামাটি, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন অন্তত দুই কোটি মানুষ। ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় অনেকে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

ওদিকে, সাগরে নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বর্ষার শুরুতে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদরা চট্টগ্রাম বিভাগে বুধবারও অতি বা ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়ে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধ্বসের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।

পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনায় বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের নির্ধারিত অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তাছাড়া, রাঙামাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ লাখ টাকা, ৫০০ বান্ডেল টিন ও ১০০ মেট্রিকটন চাল জরুরি সহায়তা হিসেবে দেয়া হবে।’ বুধবার সকালে হেলিকপ্টারে করে রাঙামাটির মানিকছড়িসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন ওবায়দুল কাদের। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন। বুধবার (১৪ জুন) ঢাকার ইইউ দফতর থেকে পাঠানো বার্তায় মায়াদুন বলেছেন, বাংলাদেশ চাইলে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

তবে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতবিক্ষত দুর্গত মানুষ এবং অসংখ্য লাশের স্তূপকে ডিঙ্গিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী এখন আনন্দভ্রমণে সুইডেন সফরে বেরিয়েছেন। ঠিক যেমনিভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানার সময় তিনি অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা সফর করছিলেন।’ বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মর্মান্তিক এই বিপর্যয়ের ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে-অতিবৃষ্টি ছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে বসতি স্থাপন এবং নানা প্রকল্পের নামে পাহাড় কাটা ও গাছপালা উজাড় করার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারমাম্য নষ্ট হয়ে এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন মনে করে, বন উজাড় ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ আগে থেকে যদি সতর্ক ও সজাগ থাকতো তবে আজকের এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতো না।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৪.০৬.২০১৭


মতামত দিন