>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে ২১ জনের মৃত্যু

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

# বান্দরবানে একই পরিবারের নিহত তিন শিশু

# বান্দরবানে একই পরিবারের নিহত তিন শিশু

নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বর্ষণের পর পাহাড় ধসে বাংলাদেশের পার্বত্যজেলা রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ১০ জন, বান্দরবানে ৭ জন ও চট্টগ্রামে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়।

রাঙামাটিতে জেলা শহরে আটজন ও কাপ্তাই উপজেলায় দু’জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হ’ল, শহরের যুব উন্নয়ন ও ভেদভেদি এলাকার রুমা আক্তার, নুড়িয়া আক্তার, হাজেরা বেগম, সোনালী চাকমা, অমিত চাকমা, আইয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক ও চুমকি দাস।

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে অনুচিং মারমা (৩০) ও নিকি মারমা নামের দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছায়া মং মারমা। এ ছাড়া একই উপজেলায় গাছচাপা পড়ে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দু’জন। সোমবার রাতে উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ চৌধুরী জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের উপর মাটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। এ ছাড়া ছনবুনিয়া উপজাতিপাড়ায় একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা কেয়াং (১০), মেমাউ কেয়াং (১৩) এবং গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং (৫০) নিহত হয়।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের সানুউ কেয়াং (২১) ও বেলাউ কেয়াং (২৮) নামের আরো দু’জন আহত হয়েছে। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ চৌধুরী।

অপরদিকে, বান্দরবানে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানে একই পরিবারের তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে বান্দরবানের লেমুঝিরি ভিতরপাড়া থেকে একই পরিবারের তিন শিশুর, আগাপাড়ায় মা-মেয়ের এবং কালাঘাটায় এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী ষ্টেশন অফিসার স্বপন কুমার ঘোষ।

নিহতরা হ’ল, লেমুঝিরির বাসিন্দা সমুন বড়ুয়ার তিন সন্তান শুভ বড়ুয়া (৮), মিতু বড়ুয়া (৬) ও লতা বড়ুয়া (৪), মোকা খিয়াং (৫৫) ও তার দুই নাতি মারমা উখিয়াং (১৩) ও কিয়োসা খিয়াং (৯) এবং কালাঘাটার কলেজছাত্র রেবা ত্রিপুরা (১৮)।

এছাড়া, আগাপাড়ার কামরুন নাহার (৪৫) ও তাঁর মেয়ে সুখিয়া আক্তার (১২) এখনো নিখোঁজ।

অব্যাহত বর্ষণে মঙ্গলবার ভোররাতে বাজালিয়ায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত রবিবার থেকে বান্দরবানে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া, রাঙামাটি সড়কের পুলপাড়া বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৩.০৬.২০১৭


Comments are closed.