>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

নাটোরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সম্ভাবতা যাচাই

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Natoreনাটোর লালপুর উপজেলার পদ্মারচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাবতা যাচাই করতে প্রস্তাবিত এলাকা ঘুরে গেলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। শুক্রবার বিকেলে এলাকাটি পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, সমীক্ষা শেষে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে লালপুর উপজেলার পদ্মার চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। পদ্মার চর ও তীরবর্ত্তী এলাকায় প্রস্তাবিত অঞ্চলের পরিধি হবে ৩৪শ’ একর। এরমধ্যে খাস জমি ছাড়া অবশিষ্ট ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের কাজ খুব শিঘ্রই শুরু হবে। অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের পুনর্বাসন ছাড়াও তাদের সন্তানদের পড়াশুনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ তাদের জীবনমানের উন্নয়নে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পবন চৌধুরী বলেন,একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিপুল খাস জমি, বিদ্যুতের সহজলভ্যতা, গ্যাস-পানি সরবরাহ ও বণ্টন, বর্জ্য সংগ্রহ, শোধন ও অপসারণ, বাসস্থান, চিকিৎসা সেবা, সহজে কাঁচামাল প্রাপ্তিসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে নাটোরের লালপুরে পদ্মার চর এলাকায়। কৃষি নির্ভর এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁঞা, লালপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তাহির অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পাঠানো চার ভারতীয় পরামর্শক দলের চার সদস্য অভিষেক মুখার্জি, ডে বায়ন, প্রভাকরণ ও সত্যমূর্তি নাটোরের লালপুরে আসেন। স্থানীয় রেলওয়ে,সড়ক ও জনপথ, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, বিমানবন্দর, গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তাঁরা পাকশী পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ে অফিস, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, আজিমনগর রেলস্টেশন, ঈশ্বরদী গ্যাস ট্রান্সমিশন অফিস ও পল্ল¬ী বিদ্যুতের কার্যালয় ঘুরে দেখেন। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন শেষে ইতিবাচক অভিমত প্রকাশ করেন। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ লালপুর পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব এসএম শওকত আলী।

উল্লেখ্য,গত ২১ অক্টোবর ২০১৫ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা’র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী ও নাটোর জেলায় দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দেন। আয়তনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি। লালপুর উপজেলার আরজী বাকনাই- রসুলপুর, বন্দোবস্ত গোবিন্দপুর, বালিতিতা, লালপুর ও চরজাজিরা এই পাঁচটি মৌজার পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর এলাকায় তিন হাজার ৪১৮.৪৬ একর সরকারি খাসজমির ওপর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রাথমিক জরিপ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের এলাকা থেকে পদ্মা নদীর দূরত্ব ছয় কিলোমিটার, ঈশ্বরদী জংশন থেকে ১৫ কিলোমিটার ও বিমানবন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা বিকাশের সুযোগ রয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে গ্যাস সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে তোলা হবে কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ইলেকট্রনিক্স কারাখানাসহ অন্য প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা যাবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কলকারখানা স্থাপনের আহ্বান জানানো হবে। জিটুজি (গভর্নর টু গভর্নর) পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে এখানে। ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য হলো ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্যের ৮০ভাগ দেশের বাইরে রপ্তানি হয়। আর অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের সিংহ ভাগ সরবরাহ করা হবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১০.০৬.২০১৭


Comments are closed.