>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তান একাধিক স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৫৪ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েন এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Thhad South Koreaদক্ষিণ কোরিয়ার লিবারাল প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন পরিবেশের উপর থাড-এর প্রভাব যাচাই (environmental impact assessment) করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুসারেই দিয়েছেন। ‌কাজটি করতে এক বছর সময় লেগে যাবে এবং তার ফলে দেশটিতে থাড মোতায়েন এক বছর বন্ধ থাকছে।

প্রেসিডেন্টর কার্যালয় আবিস্কার করে্ছে, আগের প্রেসিডেন্টর অমলে আইনকে ফাঁকি দিয়ে তড়িঘড়ি থাড মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারকে অনেক কছিুই জানানো হয়নি, বরং সত্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী কোন কাজে ৩৩০ বর্গমিটারের বেশী ভূমির প্রয়োজন হলে সে কাজের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই বাধ্যতামূলক। অথচ একটি থাড লাঞ্চার মোতায়েন করতে ৬৬০ বর্গমিটার ভূমি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরিবেশের উপর থাড-এর প্রভাব যাচাই তো করাই হয়ইনি, বরং সরকারের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির আংশিক অর্থাৎ ৩২০ বর্গমিটার দেখিয়ে পরিবেশগত প্রভাব যাচাই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব করেছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট মুনের কার্যালয় জানতে পারে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ২টি থাড লাঞ্চার মোতায়েনের অনুমোদন দিলেও ৬টি থাড আনা হয়। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টর কার্যালয়কে জানান, বাড়তি চারটি থাড এর কথা কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখতে বলেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। এ ঘটনায় দেশটির উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উই সিউং হো-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে প্রেসিডেন্টর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার লিবারাল পার্টির সমর্থক এবং প্রগতিশীল ছাত্র ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনগুলো সে দেশে থাড মোতায়েন চায় না। তারা যুদ্ধেরও বিরোধী। ইতোমধ্যে তারা থাড মোতায়েনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার বিশাল বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা মনে করে, এমনিতেই দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার প্রথম হামলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর থাড মোতায়েনের ফলে সে সম্ভাবনা কয়েকশত গুণ বেড়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে মুন জে-ইনও থাড মোতায়েনের সমালোচনা করেছেন। তিনি উত্তরের সাথে যুদ্ধ চান না বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান।

এদিকে থাড নিয়ে লুকোচুরি প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন এর দৃষ্টিতে আসা এবং এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভাইস এ্যাডমিরাল ভিনসেন্ট কে. সাইরিং ছুটে এসেছিলেন সিউলে। তারা ভয় পাচ্ছেন এ ঘটনায় দক্ষিন কোরিয়ার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হবে কী না। দক্ষিন কোরীয় কর্মকর্তাদের কাছে বার বার তিনি এ প্রশ্নটি উত্থাপন করেন। তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেমন কিছু না, যা হচ্ছে সেটা দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আইনের প্রতি সকলে যাতে শ্রদ্ধাশীল থাকে সে পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশনিউজ
০৭.০৬.২০১৭


Comments are closed.