>> পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১২৩ জন নিহত

বাগেরহাটে জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসির আদেশ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

death-sentence-1বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জে স্ত্রী এবং বাড়িতে লজিং থাকা মাদ্রাসা ছাত্র, এ দু’জনকে হত্যার মামলায় আদালত এক আসামিকে ফাঁসির দন্ডাদেশ দিয়েছে।

রবিবার বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জোড়া হত্যা মামলায় এ রায় প্রদান করেন। একই সাথে বিচারক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম হাওলদার (৫০) বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে। মামলা দায়েরের পর পুলিশের হাতে আটক হয় আবুল কালাম। এর পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে বলে আদালত সুত্র জানায়।

নিহত সুলতানা ইয়াসমিন (২৫) ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালামের স্ত্রী। ওই দম্পতির নূপুর নামে ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। অপর নিহত গুলিশাখালী গ্রামের মো. আবুল বাশার হাওলাাদারের ছেলে মশিউর রহমান (১২)। মশিউর আবুল কালামের বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো ।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবারণে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিজের ভাই, বাবা ও মামাসহ আত্মীয়স্বজনদের ফাঁসাতে আবুল কালাম গত ২০০১ সালের ৩ অক্টোবর রাতে তার স্ত্রী সুলতানা ইয়াসমিনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় তার বাড়িতে লজিং থাকা মাদ্রাস ছাত্র মশিউর রহমান দেখে ফেলায় তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে থানায় গিয়ে নিজের ভাই, বাবা ও মামাসহ আত্মীয়জনদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কালামের তিন বছর বয়েসী মেয়ে নূপুরের কাছ থেকে সত্য ঘটনা জানতে পারে এবং কালামকে আটক করে।

জোড়া খুনের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্র মশিউর রহমানের বাবা আবুল বাশার বাদি হয়ে আবুল কালামকে আসামি করে পরের দিন মোড়েলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মোড়েলগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ওই বছর ১০ ডিসেম্বর আবুল কালামকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর পর রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আদালত জোড়া হত্যা মামলার বিচার কার্য শেষ করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট শরৎ চন্দ্র মজুমদার জানান, আদালত স্ত্রী সুলতানা ইয়াসমিন এবং লজিং থাকা মাদ্রাসা ছাত্র মশিউর রহমান হত্যা মামলায় আসামি আবুল কালাম হাওলাদারকে ফাঁসির দন্ড দিয়েছে। একই সাথে আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার দির্দেশ দেয় । মামলায় ১৫ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন আদালতে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। জামিন পাওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছে বলে তিনি জানান।

মামলার বাদি আবুল বাশার মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তিনি ফাঁসির দন্ড আসামি আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৪.০৬.২০১৭


Comments are closed.