>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৪৫ হাজার ১৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Primary and Ebtedayee exam beginsআগামী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য সর্বমোট ৪৫ হাজার ১৭১ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ গত অর্থবছরের (২০১৬-১৭) সংশোধিত বাজেট ৩৯ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ ১৬ হাজার টাকার চেয়ে ৫ হাজার ৬৬৩ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার টাকা বেশি।

এবারের প্রস্তাবিত বরাদ্দের ৩০ হাজার ২৫৪ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা অনুন্নয়ন ও ১৪ হাজার ৯১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত জাতীয় বাজেটে এ প্রস্তাব করেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২৩ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ১৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ও উন্নয়ন খাতে ৬ হাজার ১৬৪ কোটি ৬৬ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ২২ হাজার ২৩ কোটি ২৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ১৩ হাজার ২৭১ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার টাকা ও উন্নয়ন খাতের জন্য ৮ হাজার ৭৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই শিক্ষাখাতের বিনিয়োগকে এ সরকার সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা সার্বিক শিক্ষাখাতের উন্নয়নে আমাদের কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

প্রাথমিক শিক্ষার প্রসঙ্গ এনে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এ স্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুণগত উৎকর্ষতা সাধনে ৫০৩টি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ শ্রেণিকক্ষ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান ও জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়নে ১৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি জেলায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সাক্ষরতা উত্তর জীবিকায়ন দক্ষতা প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভর্তির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি, নতুন অবকাঠামো ও অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণসহ চলমান অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা পুনঃনির্মাণ কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষাকে দারিদ্র বিমোচন ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিন বদলের সনদ ও রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় শিক্ষানীতি আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছি।

মুহিত বলেন, আমরা প্রথমেই চেষ্টা করছি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে। পরবর্তী অগ্রাধিকার হচ্ছে প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা। এতদুদ্দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অনবরত উন্নীত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি ১২০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৮৫টি বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। সার্বিক শিক্ষাখাতের মান্নোয়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, উল্লেখিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ উচ্চ শিক্ষার প্রসার এবং উৎকর্ষতা সাধনে চলমান কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘সেকেন্ডারী এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক একটি ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমান হবে প্রায় ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এ কথাও অনস্বীকার্য যে, শিক্ষার মানোন্নœয়ন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, উপবৃত্তি প্রদানসহ চলমান অন্যান্য কার্যক্রম বর্তমান সরকার শুধু অব্যাহতই রাখছে না, বরং প্রসারিতও করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা হবে। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রণীত হয়েছে এবং ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো স্থাপনে প্রকল্প অনমোদন পর্যায়ে রয়েছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০১.০৬.২০১৭


Comments are closed.