>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

সাইক্লোন মোরার গতিপথ নিয়ে বিভ্রান্তি

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

cyclone mora map 2আজই সা্ইক্লোন মোরা’র ল্যাণ্ডফল হওয়র কথা। কিন্তু সেটা কোথায় ল্যাণ্ডফল করবে তা নিয়ে আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ-ত্রাণ ব্যবস্থাপকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সাইক্লোন সিগনাল ৮,৯ ও ১০ এর অর্থ একই। তিনটেই মহাবিপদ সংকেত। তবে সাইক্লোনটির কেন্দ্র বা চোখ যদি কোন সমূদ্র বন্দরের উপর দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেখানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। যদি ডান পাশ দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। যদি বাম পাশ দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। সাধারণতঃ সাইক্লোন কেন্দ্রের বাতাসের গতি ৮৯-৯০ কিলোমিটার বা তার বেশী হলেই মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।

মোরা’র ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর মনে করেছে সাইক্লোনটির কেন্দ্র বা চোখ কক্সবাজার-চট্টগ্রামের উপর দিয়ে উত্তরের দিকে চলে যাবে, এজন্য দুই বন্দরেই ১০ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর চোখ কক্সবাজার-চট্টগ্রামের উপর দিয়ে যাওয়ার অর্থ পায়রা ও মংলার ডান দিক দিয়ে যাওয়া, তাই ঐ দুই বন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ সাইক্লোন মোরার একটি “প্রজেক্টেড ট্রাক” ম্যাপও প্রকাশ করেছে (চিত্র ১)।

Cyclone Mora 1পাশাপাশি, আপর দু’টি সংস্থাও পৃথক দু’টি “প্রজেক্টেড ট্রাক” ম্যাপ প্রকাশ করেছে। তাদের সাইক্লোন ট্রাক অনুসারে “মোরা”র চোখের ল্যাণ্ডফল হবে মিয়ানমারে, কক্সবাজারের দক্ষিণে (ম্যাপ ২ ও ম্যাপ ৩)। তবে সে ক্ষেত্রেও কক্সবাজার-চট্টগ্রামের জন্য ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত প্রযোজ্য।

আরও একটি কথা বলা প্রয়োজন। সাইক্লোনের কেন্দ্রে বাতাসের সাসটেইনড গতি ৮৯-৯০ কিলোমিটার বা তার বেশী হলেই বাংলাদেশের জন্য সেটা মহা বিপদ সংকেত। তবে এটা মহাবিপদ সংকেতের সর্বনিম্ন গতি। এটা ১২০, ১৫০, ১৮০, ২০০, ২২৫ বা তার বেশীও হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ গতি উর্ধে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ গতিসীমার ব্রাকেটের মধ্যে সবই মহাবিপদজনক সাইক্লোন। স্বাভাবিক কারণে, সবগুলোর ঝড়ের গতি ও তীব্রতা এবং জলোচ্ছ্বাসের ঢেউয়ের উচ্চতা কখনো এক হবে না।

Cyclone Mora 3তবে সাইক্লোন মোরা বাংলাদেশে যত বড় দুর্যোগ বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল তত বড় দুর্যোগ নাও হতে পারে। তাই বলে প্রস্তুতিতে ঢিল দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, সাইক্লোনের চরিত্র মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যেতে পারে।

(লেখক থাইল্যাণ্ডের “এশিয়ান ইনষ্টিটিউট অফ টেকোলজি”র (AIT) “এশিয়ান ডিজাষ্টার প্রিপিয়ার্ডনেস সেন্টার” (ADPC) থেকে ১৯৯৩ সালে কোর্স সম্পন্ন করেছেন)।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৫.২০১৭


Comments are closed.