>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

JNU-FARZANA-ISLAM-horzশুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল-সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নাজমুল হাসান ও মেহেদি হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গতিরোধক স্থাপন, পথচারী-সেতু নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবিতে প্রধান ফটক-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাবির দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ক্যাম্পাসে না এনে জানাজায় অংশ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে দুপুর থেকে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু শনিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশের লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহিন ও জাগো নিউজের জাবি প্রতিনিধি হাফিজুর রহমানসহ আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভিসির বাসভবনের প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীরা সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর ফটকের তালা ভেঙে তাঁরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষকরা বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেলের আঘাতে সাত শিক্ষক আহন হন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের নেতারা কয়েক দফা কথা বলেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরাতে পারেনি। সড়ক অবরোধ করে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ জানান শিক্ষার্থীরা।

JUবেলা একটার দিকে ভিসি ফারজানা ইসলাম, প্রো-ভিসি মো. আবুল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বেলা দুইটার দিকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলসহ আরও কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারী কয়েকজনকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বেলা তিনটার দিকে ভিসি আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করেন। এসময় ভিসি আশ্বাস দেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বিচার করা হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার কথায় আশ্বস্ত হননি।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গেটে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো, জয় বাংলা (প্রান্তিক) গেটে সাতদিনের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু, আজকের মধ্যেই পর্যাপ্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, গতিসীমা নির্দিষ্ট করা, নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মীয়দের যোগ্যতা অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া, নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ নানা দাবি তুলে ধরেন। উপাচার্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে লিখিত দাবির কাগজে সই করেন।

কিন্তু এরপরও রাস্তা থেকে সরে যাননি শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জানান, তাঁদের দাবির আগেও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এ রকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হলেই কেবল রাস্তা ছাড়বেন বলে জানান তাঁরা। এ সময় ‘আশ্বাসে কাজ হবে না, রাস্তা ছেড়ে এক বিন্দু নড়ব না’ বলে স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে সরে না যাওয়ায় বিশাল যানজট সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সাভার ও আশুলিয়া থানার পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেন। এরপর মিছিল নিয়ে তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল শুরু করেন। পরে উপাচার্যের বাসভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা বাসভবনের ভেতরে রয়েছেন।

শুক্রবার ভোরে সাভার থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনাগ্রহের কারণেই ক্যাম্পাসে জানাজা হয়নি।

সর্বশেষ কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্ট কালের জন্য জাহাঙবগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৮.০৫.২০১৭


Comments are closed.