>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

হাউ টু বাই অ্যা বেটার ‘সেক্স টয়’

সাইফুল বাতেন টিটো

Saiful Baten Tito sm– মা নাম কি তোমার?
– মোসাম্মৎ রেক্সোনা আক্তার।
– কোন কেলাসে পড়?
– ক্লাস টেন।
– রোল কত?
– পাঁচ।
– মাশাআল্লাহ।
– কোরান শরিফ পড়তে পার?
– জ্বী
– একটু পড়ে শোনাও তো…
পাশে দাঁড়ানে মামাতো বোন মু্ক্তার কাছ থেকে রেহেল সহ লাল মখমলে মোড়ানো ক্বোরান শরীফ হাতে নেয় রেক্সোনা। নির্দিষ্ট সুরাহ পড়তে শুরু করলে একজন বলে
– খারাও মা, আমি বাইর কইরা দি…
বলে হুজুর মতো লোকটা একটি সুরা বের করে দিলে সেটা পড়তে শুরু করে রেক্সোনা।
একসময় পাশে বসা কালো বোরকা পরা একজন থামিয়ে দিয়ে বলল
– রান্নাবান্না ক্যামোন পারো?
সামনের ঘর আর পিছনের ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ একজন বলে ওঠে
– ঘরের সব রান্নাবান্না তো ও-ই করে।
একথা শুনে যেন একটু হাসার চেষ্টা করল কালো বোরকা। মনে হলো খুশি হয়েছে সে।
– একটু উইঠা হাটো তো মা… বলল কেউ একজন। বিষয়টার জন্য যেন প্রস্তুতি নিয়েই ছিলো সবাই। তখুনি একজন মাটির কলসি দিয়ে মেঝে পানি ঢেলে দিলো। তাতে পা ভিজিয়ে হাঁটা শুরু করলো রেক্সোনা। কালো বোরকা খয়রি দাঁতকে ফিসফিস করে বলল
– হাটা টাটা পাওটাও তো ঠিকাছে মনে হয়। কি কও মোতালেবের বাপ?
মোতালেবের বাপ সে কথায় কান না দিয়ে বলল
– পায়ের রং আর মুখের রং এক না, দেখছ? ভ্যাজাল আছে।
ধন্দে পরে গেলো কালো বোরখা। বলল
– তাইলে মনে হয় পাউঠার মাখছে।
রেক্সোনা হেঁটে এসে বসলে একজন বলল
– একটু দাঁতটা দেখি?
রেক্সোনা আগের শেখানো পদ্ধতিতে দাঁত দেখায়। খুশি হয় ঐ পক্ষ। কালো বোরখা বলে
– মা তোমার কান দুইডা একটু দেহাও তো….
রেক্সোনা কান দেখায়। এমন সময় বোরকা ওয়ালী গ্লাসের পানিতে আঙ্গুল ভিজিয়ে ডলা দেয় রেক্সোনার গালে। ফর্শা অংশ সরে গিয়ে ভিতর থেকে আগের চেয়ে একটু কালো রং বেরিয়ে আসে। আরো কালো হয় কালো বোরকার ওয়ালির কালো মুখ ও মন। নিজেদের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়। ফিসফাস শুরু হয় ঘরের মধ্যেও।
পাঞ্জাবি পরা ত্রিশের কোঠার একজন তার পাশে বসা ভুড়িওয়ালার কানে কানে বলে
– বুকের সাইজ দেখছেন? যেন দুই ট্যাকা দামের শিঙ্গারা। অন্য যায়গায় চলেন তো বাল। আমার চয়েজ ঐছে না।
একথা একসময় বোরকা ওয়ালী, খয়রি দাঁত, হুজুর মতো সবার কাছে যায়। উৎসাহে ভাটা পরে সবার।
শেষমেস তারা রুহআফজা, মিষ্টি, পিঠা ইত্যাদি খেয়ে রেক্সোনার হাতে একশো টাকার একটি চকচকে নোট দিয়ে উঠে পরে। উঠে পরে রেক্সোনাও।
নিজের ঘরে গিয়ে চাচী ফুফুদের যত্নে পরিয়ে দেয়া শাড়িটা খোলে। শুধু সায়া আর ঢলঢলে একটা ব্লাউজ পরে অায়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রেক্সোনা। তাকায় নিজের পুষ্টিহীন শরীরের দিকে, সাদা রং ওঠা মুখের দিকে। আবার ভালোভাবে গায়ে জড়িয়ে নেয় শাড়িটা। আলনার পাশে লুকানো আর.সি কোলার বোতলটা হাতে নেয়। ঘরের সবাই এখন গোছগাছে ব্যাস্ত। কাজটা এখনই সারতে হবে। লেবেল ওঠা বোতলটা এখনও গলা পর্যন্ত ভরা আছে নীলচে রংএর তরলে। এভাবেই কিনে এনে লুকিয়ে রেখেছিলো এখানে রেক্সোনা। এইবার নিয়ে ১৯ বার দেখেছে ওকে। ওর পরেরটারও একটা গতি হয়েছে। ছেলের সরকারী চাকুরী আছে। ওর কোন গতি হচ্ছে না। বাড়ছে ঘরে, পাড়ায়, মহল্লায় কথার পরিমাণ, ইশারা ইঙ্গিত। অাচ্ছা রোক্সোনা যদি ছেলে হতো তাহলেও কি ওকে নিয়ে এমন ঘরে বাইরে ফুসুর ফাসুর হতো? আরে ধুর এতো ভাবার সময় কই? বোতোলে মুখটা খুলে উপুর করে ধরে মাথার উপর। বালিসের নীচ থেকে ম্যাচটা নেয়ার সময় হাঁত কাপছিলো ওর, ষষ্ঠ বার মা হতে গিয়ে ইহলোক ছেড়ে যাওয়া মায়ের মুখটা মনে পরছিলো বার বার। কিন্তু ম্যাচের কাঠিটা জ্বালিয়ে কেরোসিনে ভেজা শাড়ির কোনায় লাগাতে গিয়ে একটুও হাত কাঁপেনি রেক্সোনার।

ঢাকা
২১ মে ২০১৭

বাংলাদেশনিউজ
২২.০৫.২০১৭


Comments are closed.