>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি উত্তাপ ছড়াচ্ছে

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

North Korea missile test 1সর্বশেষ পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে উর্ধাকাশে গিয়ে আবার ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ন ঘটনাটি হয়তো অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু জাপানী পর্যবেক্ষকরা যখন জানান যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উর্ধাকাশে ২০০০ কিলোমিটার উঠে তারপর ফিরে এসে ৭০০ কিলোমিটার দূরে পড়েছে, তখনই মার্কিন ও পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা বুঝে ফেলেছিলেন, এটি একদম ভাল খবর নয়। তারা তখনই বুঝে ফেলেছেন, এ ক্ষেপণাস্ত্রটি খুব সহজেই ৪০০০ কিলোমিটার বা তারও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তাছাড়া, এটি তো ছিল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। এ ক্ষেপণাস্ত্রের রকেট ইঞ্জিনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে তা আরও বহু বহু দূর যাবে।

বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, অতীতে অনেক দেশের অনেক রকেট প্রাথমিক পরক্ষিাকালে বায়ুমণ্ডল থেকে বরে হওয়ার সময় বা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আগুন ধরে ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া এর আগে যখন নিজস্ব রকেটের সাহায্যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে তখনও এটা ঘটেনি, আবার এবার কক্ষপথের বহু উপরে যাওয়া সত্বেও রকেটে আগুন ধরেনি। এতেই পশ্চিমা বিশ্বে প্রমাদ গোণা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সামরিক উপায়ে কোরিয়া সমস্যার সমাধান করতে হলে চরম মূল্য দিতে হবে এবং সেটা হবে ব্যাপক বিস্তৃত অবিশ্বাস্য রকমের এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। জেমস ম্যাটিস বলেন, আমরা আন্তর্জাতিকভাবে কোরিয়া সমস্যার একটি কূটনৈতিক সমাধানে কীভাবে পৌছানো যায় সে বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্র, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছি। পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে ম্যাটিস বলেন, আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। (রয়টার্স)।

এদিকে, শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের উপর আস্থা রাখুন, আমাদের বিশ্বাস করুন, কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে সাহায্য করুন। শত্রুতা পরিহার করে একটি আলোচনার পরিবশে তৈরীর জন্য তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি বিশেষ অহবান জানান। ওয়াশিংটন সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হং সিওক হিউন-এর সাথে বৈঠকের সময় তিনি এ আহবান জানান। (স্পূতনিক)।

রেক্স টিলারসনের আহবানের জবাবে উত্তর কোরিয়া বলেছে, যে কোন আলোচনার আগে, সব কথার আগে আমেরিকাকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং কোরিয় উপদ্বীপ থেকে সকল প্রকার অস্ত্র ও সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এটা শুধু কথার কথা হলে চলবে না, কাজ করে প্রমাণ দিতে হবে। কারণ, কোরিয়া সমস্যার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রতি আমেরিকার শত্রুতামূলক আচরণ এবং অব্যাহতভাবে আগ্রাসী হামলার হুমকি প্রদান। আমেরিকাকে আগে এসব বন্ধ করতে হবে। এ পূর্বশর্ত পূরণ ছাড়া কোন আলোচনা অসম্ভব। জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত কিম ইন রিয়ং শুক্রবার একথা বলেন। (রয়টার্স/কেসিএনএ)।

এদিকে উত্তর কোরিয়া কোনভাবেই তার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী ত্যাগ করতে রাজী নয় এবং কোন আহবানে সাড়াও দিচ্ছে না। এমন কি প্রধান মিত্র চীনের আহবানেও না। তাদের দাবী, এটি তাদের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বৈধ কর্মসূচী।

উত্তর কোরিয়া এর আগে একাধিকবার বলেছে, সাদ্দাম হোসেন তাদের বিশ্বাস করেছিল, গাদ্দফীও তাদের বিশ্বাস করেছিল। তারা পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী বাদ দিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বাসঘাতকতা থেকে রেহাই পায়নি। এমন কি প্রেসিডেন্ট আসাদও রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের সময় তাদের বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু সে বিশ্বাস এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশনিউজ
২০.০৫.২০১৭


Comments are closed.