>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

বারমুদা ট্র্যায়াঙ্গলে আবার বিমান নিখোঁজ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Bermuda Triangle 1বারমুদা ট্র্যাঙ্গলে রহস্যজনভাবে আবার একটি চার্টার্ড বিমান নিখোঁজ হয়েছে। মায়ামি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ছিলেন বিমানচালক-সহ মোট চার জন। তাঁদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের। জানা যায়, বিমানে ছিলেন মার্কিন ব্যবসায়ী জেনিফার ব্লুমিন ও তাঁর দশ এবং চার বছর বয়সের দুই ছেলে। মায়ামি এটিসি আরও জানায়, ১৫ মে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২:১০ মিনিট নাগাদ বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রের খবর, বিমানটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল, বাহামা থেকে ৩৭ মাইল পূর্বে, সমুদ্র থেকে ২৪ হাজার ফুট উঁচুতে এবং এটির গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল।

পৃথিবীর অন্যতম বড় রহস্য বারমুদা ট্র্যায়াঙ্গল। আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় ৪ লক্ষ ৪০ হাজার মাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বারমুদা ট্র্যায়াঙ্গল। অসংখ্য মানুষ, বিমান, জাহাজ এই ট্রয়াঙ্গলের রহস্যের মধ্যে পড়ে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে। ১৪৯২ সালে স্পেনীয় নাবিক এবং ভূ-পর্যটক ক্রিস্টোফার কলোম্বাস প্রথম এই বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গল সম্পর্কে লেখেন। তাঁর জাহাজের কম্পাসও বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গেলে অকেজো হয়ে যায়। সে যাত্রায় কোনক্রমে উদ্ধার পান তিনি। কেন বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গেলে এলেই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় বিমান বা জাহাজকে? বিগত একশ’ বছর ধরে একাধিক সম্ভাবনা, অনুমান সামনে এলেও কোন নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

Bermuda Triangleতবে ২০১৬ সালে বিখ্যাত আবহাওয়াবিদ র‌্যান্ডি কারভ্যানি এবং আরও বেশ কিছু বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা দেন এই রহস্যের। তাঁদের দাবি, বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গলের রহস্যের পিছনে রয়েছে এক রকম ষড়ভুজাকৃতি মেঘ (হেক্সাগোনাল ক্লাউড)। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বারমুদা দ্বীপে ২০ থেকে ৫৫ মাইল জুড়ে ষড়ভুজাকৃতি মেঘ তৈরি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ু। যার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ মাইল। এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ুকে বলা হয় ‘এয়ার বম্ব’। এই বায়ু প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার ঝড় তৈরি করতে পারে। যার ফলে বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গেল দিয়ে যাওয়া জাহাজ বা প্লেন উধাও হয়ে যায়। তবে এ ব্যাখ্যাও যে সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য, তা কিন্তু নয়। ফলে এ ট্রায়াঙ্গল ঘিরে রহস্য এখনও রয়ে গিয়েছে।

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পাঁচটি মার্কিন বোমারু বিমান এই বারমুদা ট্রায়্যাঙ্গলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ পাঁচটি বিমানের সন্ধানে আরও তিনটি বিমান পাঠানো হয়। ফোর্ট লডরডেলের বিমানঘাঁটিতে ফেরেনি সেই বিমানগুলিও।

সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া চার্টার্ড বিমানটির চালক নাথান উলরিচের প্রাক্তন স্ত্রী মঙ্গলবার টুইট করে বারমুদা ট্র্যায়াঙ্গলে এই বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান। বাহামা উপকুলীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও বাহামা ডিফেন্স ফোর্স তার আগেই নিখোঁজ বিমানটির তল্লাসি শুরু করে দেয়। তবে ৪৮ ঘণ্টার উপর কেটে গেলেও বিমানটির কোনও হদিস মেলেনি।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৮.০৫.২০১৭


Comments are closed.