>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিখুঁত ও নির্ভুল করছে উত্তর কোরিয়া

শরীফ এ. কাফী

north-korea-missile 4 smউত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আছে বিভিন্ন শ্রেণীর, ক্ষমতার ও পাল্লার। এবং সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণেই আছে। এ বছর এপ্রিল মাসে দেশটির প্রতিষ্ঠিাতা এবং বর্তমান নেতা কিম জং উনের দাদা কিম ইল সুং এর ১০৫তম জন্ম বার্ষিকী পালনের সারিক কুচকাওয়াজে তা প্রদর্শনও করেছে। তার মধ্যে স্বল্প, মাঝারি ও দূর পাল্লার ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যেমন ছিল, বড় যুদ্ধ জাহাজ বা বিমানবাহী রণতরী বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। সব চেয়ে বড় চমক ছিল এই প্রথমবারের মত অনেকগুলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন। আরও ছিল জাহাজ থেকে এবং সাবমেরিণ থেকে উৎক্ষেপণ করার মত ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

এতদিন দক্ষিণ কোরীয়, জাপানী ও পশ্চিমা প্রপাগাণ্ডা ছিল যে, উত্তর কোরিয়ার কাছে আমেরিকায় পৌছানোর মত ক্ষেপণাস্ত্র নেই, ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেই, পরমাণু অস্ত্র (ওয়ারহেড) বাহণ করার মত ক্ষেপণাস্ত্র নেই, তাদের কোন ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে বা কাঙ্খিত দূরত্বে পৌঁছাতে পারে না… ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রপাগাণ্ডা ছিল, দেশটির সামরিক প্যারেডে যে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয় সেগুলো আসল ক্ষেপণাস্ত্র নয়; ওর ভেতরে কিছু নেই। টিন দিয়ে নকল ক্ষেপণাস্ত্র বানিয়ে রং করে তাই নাকি দেখায়। উত্তর কোরিয়ার ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্যে নয়টিই ব্যর্থ হয়েছে, ভেঙ্গে পমড়েছে বলে আগেই হৈচৈ শুরু করে দিত এসব দেশ।

দু’বছর আগেও প্রপাগাণ্ডা ছিল যে, উত্তর কোরিয়ার কাছে কোন পারমাণু অস্ত্র নেই; তবে বানানোর চেষ্টা করছে। এখন বলছে পরমাণু বোমা দু’একটি থাকতে পারে তবে ক্ষেপণাস্ত্রে বহণ করার মত পরমাণু বোমা বানাতে পারে নি। কিন্তু, পশ্চিমা বিশেস করে মার্কিন ও ন্যাটো গোয়েন্দারা এবং পরমাণু বিজ্ঞানীরা যেমন জানেন, তেমনি সারা পৃথিবীর সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানেন যে, উত্তর কোরিয়ার কাছে ১৫০ থেকে ২৫০টির মত পরমাণু বোমা আছ। পরমাণু বোমা বানানোর প্রযুক্তি তারা গত শতকের আটের দশকেই আয়ত্ব করেছে। বিগত শতাব্দীর আট ও নয়ের দশকে এই উত্তর কোরিয়াই কিন্তু পাকিস্তান, লিবিয়া ও ইরানকে পরমাণু প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছিল।

প্রশ্ন করতে পারেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে যদি আমেরিকায় পৌছানোর মত ক্ষেপণাস্ত্র থাকেই, তাহলে এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছে কেন? কেনই বা এখনও পারমানবিক বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, পরীক্ষা চালাচ্ছে? উত্তর কোরিয়া বর্তমানে যে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে তার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে গাইডেড মিসাইল বা নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে এবং প্রযুক্তি মানগতভাবে সেগুলোকে নিখুঁত ও নির্ভুল করার চেষ্টা করছে। যাতে এলোপাতাড়ি ক্ষেপণাস্ত্র না ছুঁড়ে, কাঙ্খিত লক্ষ্যস্থলে বা লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। আর যে সমস্ত পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে তার মাধ্যমে ছোট আকারের যে পরমাণু বোমা বানিয়েছে সেগুলোর “ইমপ্যাক্ট” বা কার্যকারিতা, অর্থাৎ ধ্বংস ক্ষমতা পরীক্ষা করছে।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা সামরিক ও মিডিয়া প্রপাগাণ্ডা যাই থাক, মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলরা কিন্তু ট্রাম্পকে বার বার সতর্ক করে চলেছেন। তার ফলও ফলেছে। ট্রাম্প যে ভাবে মার মার কাট কাট করে কোরিয় উপদ্বীপে বিমানবাহী রণতরীসহ ষ্ট্রাইক ফোর্স পাঠিয়েছিলেন; পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিণ পাঠিয়েছিলেন; দক্ষিন কোরিয়ায় থাড মিসাইল পাঠিয়েছেন; মনে হচ্ছিল উত্তর কোরিয়ায় হামলা বোধ হয় আসন্ন। এমন কি চীনও তার নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ত্যাগের আহবান জানায়। কিন্তু তারপর ট্রাম্প হঠাৎ করেই বাগাড়ম্বড় ছেড়ে সুর নরম করে ফেললেন। এখন বলছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারলে তিনি গর্বিত হবেন। কেন? উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনায় বসা যায় কী না তা দেখার জন্য চীনের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনও উত্তরের সাথে আলোচনায় বসার কথা বলছেন এবং পিয়ংইয়ং সফরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

অপরদিকে, ট্রাম্পের উত্তেজনাপূর্ণ রণ দামামা বাজানোর প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া কিন্তু একটুও ভীত হয়নি। তাদের আচরণে কোন চাঞ্চল্যও পরিলক্ষিত হয়নি। তারা মস্কো, বেইজিং এ বিশেষ দূতও পাঠায়নি, তাদের সাহায্যের জন্য ধর্ণাও দেয়নি। তারা বার বার বলেছে যে, হামলা হলে তারা আমেরিকা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ধ্বংস করে দেবে। তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোন বাগাড়ম্বড়ও করেনি। বরং আমেরিকা যে তাদের তুলনায় অনেক বড় শক্তি এবং তারা যে ছোট শক্তি সেটা মনে রেখেই জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমরা শেষ শক্তি দিয়ে লড়াই করে যাব। ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তার প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা ও সামরিক সক্ষমতাই প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশনিউজ
১৪.০৫.২০১৭


Comments are closed.