>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

ইয়েমেনকে নতুন লিবিয়ায় পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Yemen 2ইয়েমেনের একটি প্রদেশের এক সাবেক গভর্নর ইদরুস আজজুবাইদি দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি অঞ্চল পরিচালনার জন্য একটি রাজনৈতিক পরিষদ গঠন করেছেন।

২৬ সদস্যের এই পরিষদে রয়েছেন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জন গভর্নর ও পদত্যাগ-করা মানসুর হাদি সরকারের দুই সাবেক মন্ত্রী।

২০১৬ সালের আগস্ট মাসের পর থেকেই ইয়েমেনের বিবদমান দলগুলোর মধ্যে আলোচনা বন্ধ হয়ে আছে। দেশটির রাজনৈতিক সংকট এখন অনেকটা লিবিয়ার মত হয়ে উঠেছে। তবে ইয়েমেনের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতার পরিণতি অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

ইয়েমেনে গত এক বছর ধরে কার্যত দু’টি সরকারের শাসন চলছে। একদিকে রয়েছে সৌদি ও পশ্চিমা সরকারগুলোর মদদপুষ্ট উত্তর ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আসা ও পদত্যাগকারী মানসুর হাদি সরকার। এ সরকারের অনেক বৈঠক হচ্ছে রিয়াদে। আর অন্যদিকে রয়েছে জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলন এবং আবদুল্লাহ সালেহ’র নেতৃত্বাধীন পিপলস কংগ্রেস দলের সম্মিলিত সরকার।
২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট হাদি পদত্যাগ করার পর থেকে মূলত উত্তর ইয়েমেনকে নিয়ন্ত্রণ করছে এই বিপ্লবী সরকার। ২০১৬ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গঠন করা হয় রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদ। একই বছরের নভেম্বরে গঠন করা হয় জাতীয় মুক্তির সরকার। পাশ্চাত্য ও সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব সরকারগুলো এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু মানসুর হাদির বিপরীতে এই জাতীয় মুক্তির সরকারের প্রতি রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন।

এখন ২৬ সদস্যের নতুন এক পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে সক্রিয় হল মোট তিনটি সরকার। সর্বশেষ এই সরকারের প্রতি রয়েছে আরব আমিরাতের সমর্থন। অন্যদিকে লিবিয়াতেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে তিনটি সরকার। দেশটির ত্রিপলি ও তাবরুকে রয়েছে দু’টি পৃথক সরকার। এ ছাড়াও রয়েছে জাতীয় মুক্তি সরকার। লিবিয়ার এই শেষোক্ত সরকারের প্রতি রয়েছে বিশ্ব-সমাজের সমর্থন।

লিবিয়া আর ইয়েমেনের পার্থক্য হল ইয়েমেন অতীতেও উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হয়েছিল। ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে দুই ইয়েমেন আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়। দৃশ্যত দক্ষিণ ইয়েমেন আবারও পৃথক হয়ে যাচ্ছে। ২৬ সদস্যের নতুন পরিষদ এই প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে পারে। আর তাই আনসারুল্লাহর মুখপাত্র মুহাম্মাদ আবদুস সালাম এই পরিষদ গঠনকে ইয়েমেনের ঐক্য আর অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের একদল নেতাও বলেছিলেন যে ‘এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক পরিষদ গঠন ইয়েমেনকে উত্তর ও দক্ষিণের দেশে ভাগ করার ষড়যন্ত্র।আর এই ষড়যন্ত্রে জড়িত হয়েছে আরব আমিরাত সরকার। এ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই আমিরাতের উদ্দেশ্য।

লিবিয়ায় তিনটি সরকারের অস্তিত্ব সেখানে জাতীয় সরকার গঠনের পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে। একই ধরনের অবস্থা ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার সংকটকে আরও দীর্ঘকাল জিইয়ে রাখতে পারে।

-পারসটুডে

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১২.০৫.২০১৭


Comments are closed.