>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বাংলাদেশে শ্রমিকদের কর্মসময় আট ঘণ্টা ও ন্যূনতম বেতন ১৮ হাজার দাবি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Obaidul Quaderবাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের সময় ৮ ঘণ্টা বেঁধে দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘ড্রাইভাররা তখনই বেপরোয়া হয়ে দুর্ঘটনা ঘটান, যখন তারা আট ঘণ্টার বেশি ড্রাইভিং করেন। তারা অতিরিক্ত সময় কাজ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই শ্রমিকদের কর্মসময় আট ঘণ্টা করতে হবে। একইসঙ্গে শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে।’

সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ, এটা বন্ধ করা যেন আজকের দিনের শপথ হয় আমাদের। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বাড়ে। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের পেটে লাথি পরে, শরীরের রক্ত ঝড়ে, কলকারখানা বন্ধ হয় ও শ্রমিকরা বেকার হয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতায় এসে আরেকটি হাওয়া ভবন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের নামে চাঁদাবাজি যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যদিও শ্রমিক লীগের নামে চাঁদাবাজীর ঘটনা শোনা যায় না। তবে বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে তা খেয়াল রাখতে হবে এবং নেতাদের সংশোধন হতে হবে।’

সমাবেশের আগে একটি র‌্যালি বের হয়ে গুলিস্তান, জিপিও মোড়, হাইকোর্ট চত্তর ঘুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

এদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছে শ্রমিকরা। সকাল থেকেই রাজধানীর পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান, বিজয়নগর, মুক্তাঙ্গন, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, শাহবাগসহ বিভিন্ন শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় শ্রমিকরা জোড়ো হতে শুরু করে। এসময় তারা আট ঘণ্টার কাজের দাবিতে স্লোগান দেয়।

গুলিস্তানের নূর হোসেন স্কয়ারে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত মানববন্ধনে সব সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন আঠারো হাজার করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে শ্রমিক দিবস অর্জিত হয়েছে। সারাবিশ্বে শ্রমিকদের স্বার্থ আদায় হলেও বাংলাদেশে তা হয়নি। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও অধিকার আদায় না হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দেওয়া এবং সংগঠিত হতে না দেওয়া।

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিনটি পালনের ১৩১তম বার্ষিকী আজ। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিল। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনটিকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০১.০৫.২০১৭


Comments are closed.