>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

আন্টার্কটিকার রক্তবর্ণ জলপ্রপাতের রহস্য ভেদ করলেন বিজ্ঞানীরা

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Atarctica Bleeding-Glacier 2আন্টার্কটিকার ‘ব্লাড ফলস’-এর রহস্য উদ্ঘাটন করলেন বিজ্ঞানীরা। আন্টার্কটিকার জমাটি ঠান্ডার মধ্যেও কী ভাবে এই জলপ্রপাতের উদ্ভব তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা। শুধু তাই নয়, জলপ্রপাতের পানি লাল হওয়ার কারণ কী সেটা নিয়েও গবেষণা চলছিল। কেউ বলেছেন, লাল রঙের শ্যাওলার কারণে পানির রঙ লাল, তো কেউ বলেছেন অক্সিডাইজড আয়রনই এর জন্য দায়ী! আন্টার্কটিকার ম্যাক মারডো শুষ্ক উপত্যকায় পাঁচতলা সমান উঁচু এই জলপ্রপাতটি ১৯১১-তে আবিষ্কার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভূতত্ত্ববিদ গ্রিফিথ টেলর।

পানির রঙ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক থাকলেও, ব্লাড ফলস-এর উৎস নিয়ে ধোঁয়াশাই থেকে গিয়েছিল। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা এবং কলোরাডো কলেজের এক দল গবেষক ব্লাড ফলস-এর উৎসস্থল নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই জলপ্রপাতটির মূল উত্স একটি নোনা পানির হ্রদ। যেটা ৫০ লক্ষ বছর ধরে টেলর হিমবাহের নীচে চাপা পড়ে রয়েছে।

নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে বিজ্ঞানীরা রেডিও-ইকো সাউন্ডিং প্রযুক্তির সাহায্য নেন। এই প্রযুক্তির সাহায্যে হিমবাহের নীচে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠানো হয়। সেখান থেকে যে সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন হিমবাহের নীচে তরল অবস্থায় থাকা এই বিশাল হ্রদের অস্তিত্ব।

Atarctica Bleeding-Glacierপ্রশ্ন উঠছে হিমবাহের নীচে কী ভাবে হ্রদের পানি তরল অবস্থায় রয়েছে? হিমবাহ বিজ্ঞানী এরিন পেতিতের মতে, জমে যাওয়ার আগে পানি তাপ ছাড়ে। সেই তাপ নোনা পানিকে জমতে দেয় না। ফলে ওই তাপমাত্রাতেও পানিল তরল অবস্থাতেই থেকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, লৌহ সমৃদ্ধ হ্রদের পানি অক্সিজেনের সংস্পর্শে যখন আসছে, তখনই সেটার রঙ লাল হয়ে যাচ্ছে। আর সে পানি হিমবাহের গা বেয়ে পড়ছে। ফলে টেলর হিমবাহের গায়ে রক্তবর্ণের মতো দাগ তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের এ অভিমতের সাথে যে সমস্ত বিজ্ঞানীরা “অক্সিডাইজড আয়রনই” এ রক্তপ্রপাতের জন্য জন্য দায়ী বলে মত দিয়েছিলেন, তাঁদের সেই মতই সুপ্রতিষ্ঠিত হ’ল।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ৩০.০৪.২০১৭


Comments are closed.