>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

আমেরিকার রহস্যময় মহাকাশ বিামন

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US air force X 37B space planeআমেরিকার একটি মহাকাশ বিমান রেকর্ড দীর্ঘ সময় মহাকাশে ভ্রমণ করছে। নভোখেয়াযান ডিসকভারীর মত দেখতে কিন্তু আকারে বেশ ছোট এ বিমানটি তৈরী করেছে বোয়িং কোম্পানী। নাম দেয়া হয়েছে এক্স-৩৭বি (X-37B)।

চালক বিহীন ও মনুষ্য বিহীন সৌরশক্তি চালিত মহাকাশ বিমানটি এ পর্যন্ত চার বার মহাকাশ ভ্রমণ করেছে। প্রথমবার ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহাকাশে ছিল। দ্বিতীয়বার ২০১১ সালের ৫ মার্চ থেকে ২০১২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয়বার ২০১২ সালেল ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৬৭৪ দিন মহাকাশে ছিল। আর চতুর্থবার ২০১৫ সালের ২০ মে থেকে শুরু করে ৭৪৬ দিন পার করে এখনও মহাকাশে রয়েছে।

বিমানটি ৮.৮ মিটার বা ২৯ ফুট লম্বা, ২.০ মিটার বা ৯.৫ ফুট উঁচু, এর পাখার বিস্তৃতি ৪.৬মিটার বা ১৫ ফুট এবং ওজন ৪,৯৯০ কিলোগ্রাম বা ১১,০০০ পাউণ্ড। ভিতরে জায়গা আছে ২.১ মিটার x ১.২ মিটার বা ৭ ফুট x ৪ ফুট। বলতে গেলে একটি পিক-আপ ট্রাকের পেছনের কেরিয়ারের মত। তবে সেখানে কী বহণ করা হবে তা জানানো হয়নি। বিমানটি উর্ধাকাশে ১১০ থেকে ৫০০ মাইল বা ১৭৭ কিলোমিটার থেকে ৮০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠতে পারে এবং উড়তে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিমানের কার্যক্রম ও মিশন আতি গোপনীয় বিষয়, এ ব্যাপারে কোন কথা তারা বলতে পারেন না। তবে তারা বলছেন, বিমানটির প্রাথমিক উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমতঃ মহাকাশে আমেরিকার ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর জন্য বারবার ব্যবহারযোগ্য মাহাকাশযানের প্রযুক্তি উন্নয়ণ এবং এ ধরণের বিমান পরিচালনা ও পৃথিবীতে ফিরে আসার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো।

US mysteruious space plane X 37Bএদিকে, মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মহাকাশ বিমানটি আমেরিকার সামরিক কর্মসূচীরই অংশ এবং মহাকাশ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ। যুদ্ধকালীন সময়ে এ বিমানটি হয়ে উঠতে পারে মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ বিমান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। বিমানটি লেসার অস্ত্র সজ্জিত করে প্রয়োজনের সময় শত্রুর উপগ্রহগুলো অকেজো করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এটি শত্রুর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা অকেজো করে দেয়ার কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।

মহাকাশ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানটি তৈরী করার কাজ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চলে ১৯৯৯ সল থেকে ২০০৬-৭ সাল পর্যন্ত। তারপর, ইতোপূর্বে মহাকাশে তিনিটি দীর্ঘ মিশন শেষ করেছে। চতুর্থ মিশনে মহাকাশে ৭০০ দিনেরও বেশী সময় অবস্থান করছে। কিন্তু এর ব্যাপারে আমেরিকা কোন কিছু প্রকাশ না করলেও এ বিষয়ে অতি গোপনীয়তা প্রমাণ করে এটি নিশ্চিতভাবে সামরিক কাজেই ব্যবহার করা হবে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৫.০৪.২০১৭


Comments are closed.